নয়াখবর
শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নৌযান শুমারি সফল করি, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ি” স্লোগানে চলমান- নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১:২৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

 

“নৌযান শুমারি সফল করি, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ি”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে নৌপরিবহন খাতকে আরও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল, আধুনিক ও তথ্যভিত্তিক করতে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নৌপরিবহন অধিদপ্তরের উদ্যোগে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সহায়তায় ‘নৌযান শুমারি ২০২৬’ পরিচালনার সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। গত ২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে এ শুমারি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নৌপরিবহন অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) যৌথভাবে দেশব্যাপী এ শুমারি পরিচালনা করছে। ইতোমধ্যে প্রাথমিক লিস্টিং অপারেশনের মাধ্যমে ২,৪৪,৮০৮টি নৌযানের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

দেশের সমুদ্রগামী, উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী সকল ইঞ্জিনচালিত নৌযানের হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ এবং একটি সমন্বিত ডাটাবেজ প্রণয়নের লক্ষ্যে ২০ থেকে ২৯ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত দেশব্যাপী এ শুমারি পরিচালিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশের নৌযানের সংখ্যা, ধরন, মালিকানা, নিবন্ধনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হবে। সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রণীত ডাটাবেজ নৌপরিবহন খাতের পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নৌপরিবহন অধিদপ্তরের অধীনে বাস্তবায়নাধীন “নৌযানের ডাটাবেইজ তৈরি ও নৌযান ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় নৌযান শুমারি ২০২৬-এর কার্যক্রম পরিদর্শন এবং এর সুফল সম্পর্কে অবহিতকরণ উপলক্ষে রবিবার পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহীপুর থানা সংলগ্ন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ঘাটে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ রাজিব আহসান এমপি।

সভায় মহীপুরের জনগণ ও স্থানীয় জেলেদের বিভিন্ন দাবির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জেলেদের নিরাপদে ঘাটে ফিরে আসা নিশ্চিত করতে সাগর ও নদীর মোহনায় একটি লাইটহাউজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। নদীতে নৌযানের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি জেলেদের অবকাশকালীন সরকারি বরাদ্দের প্রণোদনা যাতে যথাসময়ে পৌঁছে দেওয়া হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি। অবৈধ ট্রলিং জাহাজ বন্ধের বিষয়েও স্থানীয়দের আশ্বস্ত করেন প্রতিমন্ত্রী।

পরবর্তীতে প্রতিমন্ত্রী ঘাটে বাঁধা একটি ফিশিং বোটে আরোহন করে নৌযান মালিক, শ্রমিক ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং নৌযান শুমারিতে অন্তর্ভুক্তির সুফল সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “নৌযান শুমারিতে আপনার নৌযানের তথ্য অন্তর্ভুক্ত হলে আপনারাই সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। একদিকে যেমন সরকারি সহায়তা ও সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে তথ্যটি কাজে আসবে, অন্যদিকে ভবিষ্যতে বিদেশি সহযোগিতা ও উন্নয়ন সহায়তা গ্রহণের ক্ষেত্রেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।”

তিনি বলেন, নৌযান শুমারির মাধ্যমে দেশের নৌযান খাত সম্পর্কে একটি নির্ভরযোগ্য, হালনাগাদ ও পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যানভিত্তিক চিত্র পাওয়া যাবে। এর ফলে নৌযানের নিবন্ধন ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আরও কার্যকর করা, নৌনিরাপত্তা জোরদার করা, নৌপথ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত পাওয়া সহজ হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “এই শুমারি সফলভাবে সম্পন্ন হলে স্থানীয় নৌযান মালিক, শ্রমিক ও জেলেরাই এর প্রধান সুফল ভোগ করবেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নৌযান শুমারির তথ্যসহ নৌযান সম্পর্কিত অন্যান্য তথ্যও প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা যাবে। এর মাধ্যমে মেরিটাইম সেক্টরে হয়রানি কমবে, মামলা-মোকদ্দমা হ্রাস পাবে এবং যাত্রী ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থার মান উন্নয়নের মাধ্যমে নৌপথে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।”
তিনি বলেন, মাছ ধরার নিষিদ্ধ সময়ে নৌযান শুমারির তালিকায় নাম থাকলে জেলেরা সহজেই সরকারি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। নিজের নৌযানের মালিকানা দাবি, ক্ষতিপূরণ, আইনি সহায়তা এবং সরকারের বিভিন্ন ধরনের পাওনা প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও শুমারির তথ্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজে আসবে। শুমারির তথ্যের ভিত্তিতে নিজ নৌযান নিজের নামে সহজে নিবন্ধনের সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি জানান, নৌযানের নিবন্ধন ফি কমানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। হয়রানিমুক্ত, সহজ ও কম খরচে নৌযানের মালিকানা ও নিবন্ধন নিশ্চিত করতে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা নৌযান মালিক ও শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবেন।
প্রতিমন্ত্রী নৌযান মালিক, শ্রমিক ও জেলেদের উদ্দেশে শুমারিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ এবং তথ্য সংগ্রহকারীদের সঠিক ও প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদানের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া এই শুমারি সফল করা সম্ভব নয়। নৌযান শুমারি সফল হলে এর সুফল সরাসরি আপনাদের কাছেই পৌঁছাবে।”
পরে প্রতিমন্ত্রী সাধারণ জেলেদের সঙ্গে ফিশিং বোটে দুপুরের খাবার গ্রহণ করেন। খাবার শেষে তিনি নৌযানে করে নদী ও সাগরের মোহনা পরিদর্শন করেন এবং নাব্যতা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।

এ সময় নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মোঃ শফিউল বারীসহ নৌপরিবহন অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।