নয়াখবর
সোমবার, ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মুসলমানেরা কেন সাংস্কৃতিকভাবে সেকুলার

অনলাইন ডেস্ক
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ ৪:৪১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সাইফুল খান

১৯২০-এর দশকে বঙ্গীয় বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে মার্কসবাদী চিন্তার অনুপ্রবেশ শুরু হয় এবং তা ধীরে ধীরে এই অঞ্চলের রাজনীতির একটি প্রধান স্রোতে পরিণত হয় । ভারতের কমিউনিস্ট আন্দোলনের সূত্রপাত (১৯২০-১৯২৫) সালে। রুশ বিপ্লবের প্রভাবে তাসখন্দে এম.এন. রায়ের নেতৃত্বে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই) গঠন করা হয়। অতঃপর দেশে অর্থাৎ ভারতে কার্যক্রমের সূচনা হয় ১৯২১ সালে। ১৯২৫ সালে কানপুরে প্রথম কমিউনিস্ট সম্মেলনের মাধ্যমে ভারতের মাটিতে সিপিআই-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।

১৯৪৭-এ দেশভাগের পর কমিউনিস্ট পার্টি অফ পাকিস্তানের অংশ হিসেবে পূর্ববাংলায় কমিউনিস্ট পার্টি (পরবর্তীতে কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইস্ট পাকিস্তান) আত্মপ্রকাশ করে । ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে ২৪ জন কমিউনিস্ট ও বামপন্থী প্রার্থী জয়লাভ করে, যা প্রমাণ করে যে এই অঞ্চলের মূল স্রোতের রাজনীতিতে কমিউনিস্টরা একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। মার্কসবাদীদের এই উত্থানের পেছনে কেবল সংসদীয় রাজনীতি সীমাবদ্ধ থাকেনি। তারা ভাষা আন্দোলন, সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চা (যেমন প্রগতি লেখক সংঘ, ইপিটিএ) এবং শান্তি পরিষদের মতো প্ল্যাটফর্মে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে সমাজের বিভিন্ন স্তরে প্রগতিশীল চিন্তাধারা ছড়িয়ে দিতে ভূমিকা রাখে।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট আন্দোলন গভীর আদর্শগত বিভাজনের সম্মুখীন হয়। মস্কোপন্থী কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) মুক্তিযুদ্ধ সমর্থন করলেও, মাওপন্থীরা (যারা পাকিস্তানের বিভক্তির বিরোধিতা করেছিল) প্রথম দিকে এই যুদ্ধকে ‘ইন্দো-সোভিয়েত ষড়যন্ত্র’ হিসেবে মূল্যায়ন করে । তবে সিরাজ সিকদারের মতো বিপ্লবী নেতা ‘পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি’ গঠন করে সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে একটি স্বাধীন জাতিরাষ্ট্র গঠনের পক্ষে তত্ত্ব উপস্থাপন করেন। মার্কসবাদী তথা বামপন্থীরা পূর্ববাংলায় রাজনৈতিকভাবে জনগনের সাথে সংযুক্ত ছিলো তারচেয়ে বেশি ছিলো সাংস্কৃতিকভাবে। তৎকালে মুসলিম সংস্কৃতি বলতে তেমন কিছু ছিলোনা। ফতোয়ার বেড়াজালে ইসলামি সংস্কৃতির মৃত্যু ঘটেছিলো বহুপূর্বেই।

ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল এই অঞ্চলের মুসলমান ও আলেম সমাজ। পলাশীর পতনের পর থেকেই তারা উপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেন। ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের আগে থেকেই ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, সৈয়দ আহমদ বেরলভীর নেতৃত্বে বালাকোটের যুদ্ধ, তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা এবং হাজী শরীয়তুল্লাহ ও দুদু মিয়ার ফরায়েজি আন্দোলনে নেতৃত্ব ছিল মূলত মুসলমানদের হাতে। ব্রিটিশরা এগুলিকে ‘ওহাবি’ ও ধর্মান্ধদের আন্দোলন বলে বদনাম করলেও, এগুলো ছিল মূলত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রথম স্ফুলিঙ্গ ।

স্যার সৈয়দ আহমদ খান মুসলমানদের পশ্চাৎপদতা দূর করতে ইংরেজি শিক্ষার প্রসার ঘটান এবং আলীগড় আন্দোলনের সূচনা করেন। তিনি মুসলমানদের কংগ্রেসে না যাওয়ার পরামর্শ দেন, যা পরবর্তীতে স্বতন্ত্র মুসলিম রাজনীতির ভিত তৈরি করে।

১৯০৬ সালে ঢাকায় নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে মুসলমানরা প্রাতিষ্ঠানিক রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।

১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ রদের প্রতিক্রিয়ায় এবং হিন্দু জাতীয়তাবাদের উত্থানের জেরে মুসলমানরা নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় সক্রিয় হন। নওয়াব স্যার খাজা সলিমুল্লাহ, সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী, আবুল কাসেম প্রমুখের হাত ধরে ঢাকায় বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগ গঠিত হয়, যা বাংলা ভাষাকে এর প্রাতিষ্ঠানিক ভাষা হিসেবে গ্রহণ করে ।

১৯৩৭ সালের নির্বাচনে বাংলায় মুসলিম লীগ বিস্ময়কর সাফল্য পায়। মোট মুসলিম আসনের এক-তৃতীয়াংশের বেশি (৩৬টি) আসন তারা বাংলায় লাভ করে, যা প্রমাণ করে এই অঞ্চলের মুসলমানরা কতটা রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত ছিল ।

এ. কে. ফজলুল হক ১৯৪০ সালে লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যা পাকিস্তান সৃষ্টির পথ প্রশস্ত করে। ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে বাংলার আইনসভায় মুসলিম লীগ ২৫০ আসনের মধ্যে ১১৪টি আসনে জয়লাভ করে, যা ছিল অন্যান্য প্রদেশের তুলনায় সর্বোচ্চ সাফল্য ।

শুধু সভা-সমিতি নয়, সাংবাদিকতা ও লেখালেখির মাধ্যমেও মুসলমান সমাজ রাজনীতি সচেতন ছিল। মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ মুসলিম সাংবাদিকতার পথিকৃৎ। কেবলমাত্র তার প্রতিষ্ঠিত ‘দৈনিক আজাদ’ ছিল পাকিস্তান আন্দোলনের একমাত্র বাংলা মুখপত্র। মুসলমানেরা প্রচন্ড আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন ও রাজনীতি সচেতন থাকার পরেও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে ছিলো একেবারেই অনগ্রসর।

অপরদিকে মুসলমান রাজনীতির বহু পরে জন্ম নিলেও মার্কসবাদীরা বুঝতে পেরেছিল যে, জনগণের মননে বিপ্লব ঘটাতে হলে প্রথমে তাদের চিন্তায় বিপ্লব ঘটাতে হবে। তাই তারা শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতিকে সমান গুরুত্ব দিয়েছিল।

ইন্ডিয়ান পিপলস থিয়েটার অ্যাসোসিয়েশন (ইপিটিএ)-এর মতো সংগঠন তৈরি করে তারা গণনাটক, গণসংগীতকে জনপ্রিয় করে তোলেন। এই আন্দোলন পূর্ববাংলায়ও ব্যাপক প্রভাব ফেলে। বিজন ভট্টাচার্যের ‘নবান্ন’ নাটকটি যখন মঞ্চস্থ হয়, তখন তা নিছক বিনোদন নয়, হয়ে ওঠে কৃষকের শোষণের জীবন্ত দলিল । হেমাঙ্গা বিশ্বাস, শচীন দেববর্মণ, পরবর্তীতে সলিল চৌধুরীর মতো শিল্পীরা ‘আমাদের সংগ্রাম’, ‘আমরা করব জয়’ এর মতো গান লিখে শ্রমিক-কৃষকের প্রতিরোধের ভাষা তৈরি করেন। এই গানগুলো মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে মার্কসবাদী চিন্তাকে জনপ্রিয় করে তোলে। সাপ্তাহিক গণবাণী, দৈনিক স্বাধীনতা এবং বিভিন্ন ভাষায় প্রকাশিত কমিউনিস্ট পুস্তিকা ও বই বিপুল পরিমাণে প্রচার করা হতো। কম দামে মার্কসবাদী ক্লাসিক ও রুশ সাহিত্য বাংলায় অনুবাদ করে সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়।

মুসলিম লীগ যখন পাকিস্তান আন্দোলন শুরু করে, তখন তাদের মূল ফোকাস ছিল সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক অধিকার আদায়। সংস্কৃতিকে তারা হয়তো রাজনীতির চেয়ে গৌণ মনে করেছিল। মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ বা খাজা নাজিমুদ্দিনের ভাষ্য ছিল আইন ও সংবিধানকেন্দ্রিক। তারা মঞ্চ, গান বা নাটকের মাধ্যমে নয়, বরং আলোচনা, প্রস্তাব ও নির্বাচনের মাধ্যমেই আন্দোলন গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। ফলে তাদের আন্দোলন গ্রামের দরিদ্র মুসলমানের কাছে শুধু একটি ‘ধারণা’ হয়ে থাকলেও তা ‘অনুভূতি’তে পরিণত হয়নি।

তবে কিছু আলেম ও বুদ্ধিজীবী সাংস্কৃতিক জাগরণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলেন। মাওলানা আকরম খাঁ তিনি শুধু সাংবাদিকই ছিলেন না, ছিলেন একজন সংগঠক ও লেখক। তিনি ‘দৈনিক আজাদ’ পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করে মুসলমানদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করেন। তবে তার এই উদ্যোগ মার্কসবাদীদের ইপিটিএ-র মতো ব্যাপক সাংস্কৃতিক আন্দোলনে রূপ নেয়নি । মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন ‘সওগাত’ পত্রিকা প্রকাশ করে মুসলিম নারী-পুরুষের মধ্যে আধুনিক শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা করেন। সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে তিনি মুসলিম পুনর্জাগরণের হাতিয়ার হিসেবে দেখেছিলেন । গোলাম মোস্তফা ও অন্যান্য সাহিত্যিক ইসলামী ভাবধারা ও মুসলিম ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে সাহিত্য রচনা করলেও, মার্কসবাদীরা যেভাবে নাটক বা গণসংগীতের মাধ্যমে খেটে খাওয়া মানুষের দৈনন্দিন সংগ্রামকে তুলে এনেছিল, তারা সেভাবে ‘জনগণের ভাষা’ তৈরি করতে পারেননি।

মার্কসবাদীরা একটি পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তুলেছিল, যেখানে নাটক, গান, কবিতা, সিনেমা সবকিছুই ছিল রাজনীতির সম্প্রসারণ। অন্যদিকে মুসলিম লীগের সংস্কৃতি ছিল মূলত ‘আভিজাত্যের’ (urban elite-centered) এবং তাদের প্রচারণা ছিল পাকিস্তান সৃষ্টির নামে ধর্মীয় আবেদনে ঠাসা। এই ধর্মীয় আবেদন স্বল্পমেয়াদে জনপ্রিয় হলেও, তা মানুষের দৈনন্দিন অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হতে পারেনি।

মার্কসবাদীদের এই সাংস্কৃতিক আক্রমণের কারণে তাদের মতাদর্শ মানুষের হৃদয়ের খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিল। অন্যদিকে, মুসলিম লীগের রাজনীতি ধর্মীয় অনুভূতিতে সেঁটে থাকলেও, তা শিল্প-সংস্কৃতির শক্তিশালী ভিত তৈরি করে জনগণের মনে স্থায়ী আসন পেতে পারেনি।

ইতিহাসের পাতা ও মানুষের স্মৃতি এর মধ্যে একটি মৌলিক পার্থক্য আছে। স্মৃতি ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু স্মরণ বা ঐতিহ্য টিকে থাকে চর্চার মাধ্যমে। ফলে খেয়াল করলে দেখা যায় বাংলাদেশের জনমানস সাংস্কৃতিকভাবে সেকুলার। এটা গত এক শতাব্দীর প্রচেষ্টার ফল। তাই সাংস্কৃতিকভাবে সংখ্যাগরিষ্ট মুসলমানেরা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু।

২০২৪-এর জুলাই-আগস্টের আন্দোলন নিছক একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়; এটি ছিল একটি সাংস্কৃতিক জাগরণেরও নামান্তর। ছাত্র-জনতা যখন শ্লোগান দিয়েছিল, তখন তারা শুধু একটি সরকারের পতন চায়নি, তারা একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল।

কিন্তু এই স্বপ্ন ও আত্মত্যাগকে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হলে প্রয়োজন নাটক, গান, সিনেমা, সাহিত্য, ছবি এই সব মাধ্যমের। ‘৫২-এর ভাষা আন্দোলনকে আমরা ভুলতে পারিনি, কারণ সালাম, বরকত, রফিকের নামের পাশাপাশি আছে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ গানটি, আছে মুনীর চৌধুরীর ‘কবর’ নাটকটি, আছে চিত্রশিল্পীদের আঁকা সেই সময়ের ছবি। মার্কসবাদীরা ইপিটিএ গঠন করে ঠিক এই কাজটিই করেছিল। তারা একটি রাজনৈতিক বার্তাকে সাংস্কৃতিক সম্পদে রূপান্তরিত করেছিল।

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পরে এখন পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তেমন কোনো বড় মাপের উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। কিছু দেয়াললিখন, কিছু ক্ষণস্থায়ী পোস্টার, কিছু আবেগঘন সোশ্যাল মিডিয়া স্ট্যাটাস এর বাইরে যদি সুসংহত সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে না ওঠে, তাহলে আশঙ্কা সত্যি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনীতিতে একটি প্রবণতা দেখা গেছে। আন্দোলন শেষ হলেই তার সাংস্কৃতিক বহিঃপ্রকাশও স্তিমিত হয়ে যায়। অথচ এই সময়টাতেই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সেই আন্দোলনের শেকড়কে মজবুত করার, একে একটি ‘জীবন্ত ঐতিহ্যে’ রূপান্তরিত করার। মিছিলের শ্লোগান শক্তিশালী হলেও তা মুহূর্তের। অন্যদিকে, একটি নাটক বা একটি সিনেমা বহুবার মঞ্চস্থ ও প্রদর্শিত হতে পারে, মানুষের চিন্তার খোরাক জোগাতে পারে। যদি জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে একটি শক্তিশালী নাটক রচিত হয়, যদি সেই সময়ের ছাত্রনেতাদের গল্প নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়, যদি কবিরা লেখেন সেই রাতের নৃশংসতার বর্ণনা, তাহলে ‘শহিদ মিনারে ফুল দেওয়ার’ মতো করেই নতুন প্রজন্মও এই বিপ্লবের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে।

শেখ হাসিনার স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ভূমিকা ভুলিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র শুরু হয়ে গেছে। ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টা আমরা বাংলাদেশে বহুবার দেখেছি। একমাত্র সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেই এই বিকৃতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব।

তাই শুধু স্মৃতিচারণ নয়, প্রয়োজন সক্রিয় সাংস্কৃতিক চর্চা। ছাত্র-জনতার সেই আত্মত্যাগকে যদি আমরা ‘গণসংস্কৃতি’র অংশ করে তুলতে পারি, তাহলেই তা একদিন ‘গণস্মৃতি’তে পরিণত হবে। জুলাই বিপ্লব যদি কেবল একটি ‘ঘটনা’ হয়ে থেকে যায়, তবে তা ইতিহাসের পাতায় স্থান পেলেও মানুষের হৃদয়ে স্থান পাবে না। আর তা হারিয়ে গেলে সেই আন্দোলনের প্রকৃত বিজয় কখনোই পূর্ণতা পাবে না।

 

লেখক -ইতিহাস, রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশ্লেষক