নয়াখবর
শুক্রবার, ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আলেম সমাজেৱ বিভক্তি ও অদৃশ্য সম্ভাবনাৱ শক্তি- ড. আ. ফ. ম খালিদ হোসেন

অনলাইন ডেস্ক
মার্চ ২২, ২০২৬ ৪:৫৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

…….. বাংলাদেশেৱ রাজনৈতিক বাস্তবতাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনীতি কয়েকটি বড় দলের প্রভাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এই শক্তিশালী রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে নতুন কোনো শক্তির জায়গা তৈরি করা সহজ নয়। সংগঠন, অর্থনীতি, জনসংযোগ ও রাজনৈতিক কৌশলের দিক থেকে শক্তিশালী প্রস্তুতি ছাড়া নতুন রাজনৈতিক শক্তির প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে পড়ে।

তবে সম্ভাবনার দিকটিও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ধর্মপ্রাণ এবং তাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে ইসলামি মূল্যবোধের প্রভাব গভীর। ফলে অনেকেই আশা করেন, ইসলামপন্থি শক্তিগুলো নিজেদের মধ্যে বিভেদ ভুলে বৃহত্তর লক্ষ্য সামনে রেখে কাজ করবে। সাধারণ মানুষের এই প্রত্যাশা কেবল আবেগের বিষয় নয়; এর পেছনে বাস্তব রাজনৈতিক প্রয়োজনও রয়েছে। তারা মনে করে, ইসলামপন্থিরা যদি ঐক্যবদ্ধ হতে পারে, তাহলে তারা জাতীয় জীবনে একটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

ঐক্যের ক্ষেত্রে আলেমদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমাজে তাদের প্রতি মানুষের আস্থা রয়েছে। তারা যদি উদারতা, প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়ে পারস্পরিক সংলাপ ও সমঝোতার পরিবেশ তৈরি করেন, তাহলে ঐক্যের পথ অনেকটাই সহজ হতে পারে। মতভিন্নতা থাকতেই পারে, কিন্তু সেটিকে যেন ব্যক্তিগত বিরোধে রূপ না দেওয়া হয়-এই সচেতনতা প্রয়োজন।

ইসলামের ইতিহাস আমাদের শেখায়, মতভেদ কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়। সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়িন এবং পরবর্তী যুগের বহু ইমামের মধ্যেও বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য ছিল। কিন্তু তারা একে অপরের প্রতি সম্মান বজায় রেখেছেন এবং ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক অটুট রেখেছেন। এই ঐতিহ্যই ইসলামি জ্ঞানচর্চার সৌন্দর্যকে সমৃদ্ধ করেছে। বর্তমান সময়েও সেই আদর্শ অনুসরণ করা প্রয়োজন।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অহমিকা ও অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস। অনেক সময় কোনো সংগঠন বা দল নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির ওপর অতিমাত্রায় আস্থা রেখে অন্যদের সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে না। আবার কেউ কেউ নেতৃত্বের প্রশ্নে ছাড় দিতে অনীহা দেখায়। এসব মনোভাব ঐক্যের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বাস্তবে দেখা যায়, বিচ্ছিন্ন শক্তি যত বড়ই হোক, সম্মিলিত শক্তির কাছে তা অনেক সময় দুর্বল হয়ে পড়ে।

পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের আলেম সমাজের সামনে এখনো বড় সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে প্রয়োজন পারস্পরিক সহনশীলতা, দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং শক্তিশালী সংগঠন। মতভেদ থাকলেও বৃহত্তর স্বার্থে সমঝোতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। যদি আলেম সমাজ ঐক্য, প্রজ্ঞা ও – দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে পারে, তাহলে তারা – শুধু রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই নয়-সমগ্র জাতির নৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে আরো কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

-ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
সাবেক উপদেষ্টা, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়, ঢাকা।