নয়াখবর
শনিবার, ৯ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

যুদ্ধের প্রভাবে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ঘরে, চাপে নিম্ন আয়ের মানুষ

online
মে ৬, ২০২৬ ৩:০৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের ফলে সৃষ্ট যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি আবার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। এছাড়া খাদ্য এবং খাদ্য বর্হিভূতখাতেও মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৯ এবং ৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ। উচ্চ মূল্যস্ফীতির ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর চাপ আরেক দফা বাড়লো।

গতকাল বুধবার এপ্রিল মাসের মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতি নিয়ে হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত মার্চ মাসে মূল্যস্ফীতি ছিলো ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। তা এপ্রিল মাসে শূন্য দশমিক ৭০ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৯ দশমিক শন্য ৪ শতাংশ। গত এপ্রিল মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয় ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ। গ্রাম-শহরনির্বিশেষে সার্বিক মূল্যস্ফীতি এখন ৯ শতাংশের বেশি।

জানা গেছে, গত ১৯ এপ্রিল সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১১২ থেকে বাড়িয়ে ১৩০ টাকা, অকটেন ১২০ থেকে বাড়িয়ে ১৪০ টাকা ও পেট্রলের দাম ১১৬ থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে।

মূল্যস্ফীতি বাড়লে সীমিত ও মধ্য আয়ের মানুষের কষ্ট বাড়ে। আয় না বাড়লে তাদের সংসার চালানের খরচ বেড়ে যায়। গত দুই সপ্তাহে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ফলে শাকসবজির দাম কেজিতে ১০-১৫ টাকা বেড়েছে। মাছ-মাংসের দামও বাড়তি। তবে চালের দাম স্থিতিশীল আছে।

গ্রামীণ পর্যায়ে এপ্রিল মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ, যা গত মার্চ মাসে ছিলো ৮ দশমিক ৭২ শতাংশ। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে মুল্যস্ফীতি ছিলো ৯ দশমিক ১৫ শতাংশ। এপ্রিলে খাদ্য ও খাদ্যবর্হিভূতখাতে মূলস্ফীতি হয়েছে যথাক্রমে ৮ দশমিক ২৩ এবং ৯ দশমিক ৮১ শতাংশ।
শহর পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির তথ্যে বিবিএস জানিয়েছে, এপ্রিল মাসে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ, যা মার্চ মাসে ছিলো ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ। খাদ্য ও খাদ্যবর্হিভূতখাতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে যথাক্রমে ৮ দশমিক ৮১ এবং ৯ দশমিক ১৫ শতাংশ।

গত এপ্রিল মাসে জাতীয় পর্যায়ে মজুরি হার হয়েছে ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ। গত মার্চ মাসে জাতীয় পর্যায়ে মজুরির হার ছিলো ৮ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ এবং ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ছিলো ৮ দশমিক ১৯ শতাংশ। এর মানে হলো, যত মূল্যস্ফীতি হয়েছে, এর চেয়ে মজুরি কম বেড়েছে। ফলে বাজার থেকে পণ্য কিনতে ভোগান্তি বাড়ছে। মূল্যস্ফীতির চেয়ে মজুরি বৃদ্ধি বা আয় বৃদ্ধি কম হলে সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়ে। প্রকৃত আয় কমে যায়। মূল্যস্ফীতির তুলনায় আয় না বাড়লে ধারদেনা করে সংসার চালাতে হয় কিংবা খাবার, কাপড়চোপড়, যাতায়াতসহ বিভিন্ন খাতে কাটছাঁট করতে হয়।
মজুরির তথ্যে দেখা যায়, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে তিনটি বৃহৎ খাতে (কৃষি, শিল্প, সেবা) মজুরি হার পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে হয়েছে যথাক্রমে ৮ দশমিক ১৯, ৮ দশমিক শুন্য ৯ ও ৮ দশমিক ৩১ শতাংশ যা, মার্চ ২০২৬ এ ছিলো ৮ দশমিক ১১, ৮ দশমিক শূন্য ২ ও ৮ দশমিক ২৩ শতাংশ। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে মজুরির হার ছিলো ৮ দশমিক ৪০, ৭ দশমিক ৮৭ ও ৮ দশমিক ৪২ শতাংশ।