নয়াখবর
মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চার স্তরে মজুত, জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের কোনো অভাব হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
জুন ১০, ২০২৬ ৩:৫২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

দেশে কুকুরে কামড়ানোর ভ্যাকসিনের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে দেশব্যাপী ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭০০ ডোজ অ্যান্টি-র‍্যাবিস ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়েছে এবং এই কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আগামীতে কুকুরে কামড়ানো রোগীর সংখ্যা বাড়লেও ভ্যাকসিনের কোনো অভাব হবে না।
বুধবার (১০ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের তারকা চিহ্নিত ও সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সসহ দেশের সকল হাসপাতালে কুকুরে কামড়ানোর প্রতিষেধক (Anti-Rabies Vaccine) সরবরাহের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত সারা দেশে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৭৫ ভায়াল বা ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭০০ ডোজ ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়েছে।’
নির্দিষ্ট এলাকার তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, ১০ জুন পর্যন্ত বাঁশখালী উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে অ্যান্টি-র‍্যাবিস ভ্যাকসিনের (ARV) ৫০টি ভায়াল মজুত আছে। এছাড়া শরীরের ওপরের অংশে কুকুর কামড়ালে তড়িৎ অ্যান্টিবডি তৈরির জন্য ব্যবহৃত ইমিউন গ্লোবুলিন (Immune Globulin) ভ্যাকসিনের মজুত রয়েছে ৬৫ ভায়াল বা ২৬০ ডোজ।
পরবর্তীতে ওই সংসদ সদস্যের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরবরাহ ব্যবস্থার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, আমরা সারা বাংলাদেশে তিন স্তরে স্টক (মজুত) রেডি রেখেছি। শুধু এটি নয়, প্রতিটি ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রেই উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ মজুত রাখা হয়েছে।’
জরুরি পরিস্থিতিতে ভ্যাকসিনের জোগান নিশ্চিত করতে সরকারের ‘চার স্তরের’ প্রস্তুতির কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের পরিষ্কার নির্দেশনা রয়েছে— যদি কোনো উপজেলায় মাত্রাতিরিক্ত রোগী আসে এবং স্টক শেষ হয়ে যায়, তবে পাশের উপজেলা থেকে তাৎক্ষণিকভাবে সংগ্রহ করতে হবে। সেখানে শেষ হয়ে গেলে জেলা থেকে নেবে। জেলার মজুতও যদি শেষ হয়ে যায়, তবে কেন্দ্র বা সিএমএসডি (CMSD) থেকে ভ্যাকসিন সরবরাহ না হওয়া পর্যন্ত জেলা প্রশাসক (ডিসি) তাৎক্ষণিকভাবে কিনে দেবেন।’
সংসদ সদস্য ও দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘চার স্তরে আমরা মজুত রেখেছি। মাননীয় সংসদ সদস্যকে নিশ্চয়তা প্রদান করছি, ইনশাআল্লাহ এই আশ্বিন মাসে কুকুরে বেশি কামড়ালেও আল্লাহর রহমতে আমাদের ভ্যাকসিনের কোনো অভাব হবে না।

সরকার অতিদ্রুত ১ লক্ষ স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগ করবে 

 সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন অতিদ্রুত ১ লক্ষ স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগ করা হবে এবং অতি দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন ৷

জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মোঃ আবুল কালাম আজাদের এক প্রশ্নের উত্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা জানান। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং প্রত্যেক নাগরিককে মর্যাদা ও সম্মানের সাথে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা। সেই আলোকে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। এখানে উল্লেখ করতে চাই স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে গ্রামের হতদরিদ্র মানুষকে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করার লক্ষ্যে সর্বপ্রথম বাংলাদেশের সকল থানা সদরে (বর্তমান উপজেলা) ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন এবং জনস্বাস্থ্যসেবার দ্বার উন্মোচন করেন। পরবর্তীতে তাঁরই উত্তরসূরী আপোষহীন নেত্রী সাবেক তিন বারের প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকাকালীন সকল উপজেলা হাসপাতালকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করেন এবং স্বাস্থ্যসেবার দ্বার আরও প্রসারিত করেন।
আলহামদুলিল্লাহ, একই পরিবারের গর্বিত সদস্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী উপজেলা পর্যায়ের সকল ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালকে ১০১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন এবং এরই মধ্যে মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু করেছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শূন্য পদে জনবল নিয়োগ একটি চলমান প্রক্রিয়া, যার অংশ হিসাবে ৪৫তম বিসিএস-এ ৪৫০ জন, ৪৬তম বিসিএস-এ ১,৬৮২ জন, ৪৭তম বিসিএস-এ ১,৩৩১ জন এবং ৫০তম বিসিএস-এ ৬৫০ ‘জন সহকারী সার্জন নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সিনিয়র স্টাফ নার্স এর শূন্য পদ পূরণের লক্ষ্যে সরকারি কর্ম কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মিডওয়াইফ পদ পূরণের লক্ষ্যে ১৯/০৪/২০২৬ খ্রি. তারিখে বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন সচিবালয়ে “মিডওয়াইফ” (১০ম গ্রেড) পদে নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। এছাড়া বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন অতিদ্রুত ০১ লক্ষ স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগ প্রদান করা হবে। অতি দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কয়রা এবং পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শূন্য পদে পদায়ন করা হবে।

অস্ত্র না আমি বলেছি যন্ত্রপাতি: স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে সংসদে হাস্যরস

স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় তিনি এক সম্পুরক প্রশ্নের জবাবে হাসপাতালগুলোতে জনবল, অস্ত্র পাচারের যন্ত্রপাতি বলতে গিয়ে বলেন, অস্ত্র দেওয়া হঢেছ । এটি নিয়ে সংসদে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজেও হাসেন ও তার কথা সংশোধন করে বলেন, অস্ত্র না আমি বলেছি যন্ত্রপাতি।

জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য বীথিকা বিনতে হোসাইনের এ সম্পুরক প্রশ্ন করেন ৷ এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের সকল নাগরিকের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সকল মানুষের নিকটস্থ সেবা আরও সহজতর করার লক্ষ্যে সারা বাংলাদেশের ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালকে ১০১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে রূপান্তরিত করার ঘোষণা দিয়েছেন। শুধু হাসপাতাল না সাথে জনবল অস্ত্র, মানে যন্ত্রপাতি আইসিইউ এবং পোস্ট অপারেটিভ সেন্টার। স্যরি মানে মাননীয় স্পিকার স্যার সাহেব স্যরি। অস্ত্র না আমি বলেছি যন্ত্রপাতি। আর অস্ত্র পাচারের জন্য যন্ত্রপাতি এমনকি মাদার ব্রেস্টফিডিং কর্নারের পর্যন্ত প্রস্তাবনা রাখা হয়েছে।
সম্পুরক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকার অতীত থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত স্বাস্থ্যখাতে কী করেছে বা কোন জায়গায় এসেছে। স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশের নিম্নবিত্ত মধ্যবিত্ত আত্মপীড়িত জনগণের স্বাস্থ্য সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে সর্বপ্রথম সারা দেশব্যাপী তৎকালীন প্রত্যেকটি থানায় ৩০ থেকে ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল স্থাপন করে জনগণের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তৎপরবর্তীতে কোনও সরকার এই খাতে মনোনিবেশ করেননি। ১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়া যখন দ্বিতীয়বারের মত ২০২১ এ ক্ষমতায় আসলেন বাংলাদেশের মানুষের স্বাস্থ্য সেবাকে নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সেই দলেরই প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সারা দেশব্যাপী সকল উপজেলা হাসপাতালকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করে স্বাস্থ্যসেবা আরও উন্নত করেন। একই দলের একই পরিবারের সন্তান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের সকল নাগরিকের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সকল মানুষের নিকটস্থ সেবা আরও সহজতর করার লক্ষ্যে সারা বাংলাদেশে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালকে ১০১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে রূপান্তরিত করার ঘোষণা দিয়েছেন। শুধু হাসপাতাল না সাথে জনবল অস্ত্র মানে যন্ত্রপাতি আইসিইউ এবং পোস্ট অপারেটিভ সেন্টার,স্যরি মানে মাননীয় স্পিকার স্যার সাহেব স্যরি। অস্ত্র না আমি বলেছি যন্ত্রপাতি। এ সময় সংসদ সদস্যদের অনেকেই হেসে ওঠেন ৷ সাথে সাথে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজেও হাসতে থাকেন ৷ হাসতে হাসতে কথা বলতে থাকেন ৷ তিনি বলেন, আর অস্ত্র পাচারের জন্য যন্ত্রপাতি এমনকি মাদার ব্রেস্টফিডিং কর্নারের পর্যন্ত প্রস্তাবনা রাখা হয়েছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী সেটা করেছেন।