নয়াখবর
বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ফিরে দেখা জুলাই

অনলাইন ডেস্ক
জুলাই ১৫, ২০২৬ ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন এক রক্তাক্ত ও ঐতিহাসিক মোড় নেয়। এই দিন সরকারি চাকরিতে কোটার প্রতিবাদে সোচ্চার শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হামলায় রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ সারাদেশে অন্তত ছয়জন নিহত হন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর সারা দেশে তীব্র ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে।

১৬ জুলাইয়ের এই মর্মান্তিক দিনটিতে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
আবু সাঈদের আত্মদান: ১৬ জুলাই দুপুরে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ ও ছাত্রলীগ নির্বিচারে গুলি চালায়। এ সময় পুলিশের সামনে বুক চিতিয়ে  দাঁড়িয়ে অসীম সাহসিকতার পরিচয় দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। তার এই আত্মত্যাগ পুরো আন্দোলনকে এক নতুন গতি ও জনসমুদ্রে পরিণত করে।

সারাদেশে সহিংসতা ও প্রাণহানি: শুধু রংপুরে নয়, একই দিন কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। ১৬ জুলাইয়ের বিভিন্ন সহিংসতায় সারাদেশে অন্তত ৬জন প্রাণ হারান।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা: আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।  ১৬ জুলাই সরকার দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে। আবাসিক শিক্ষার্থীদের অবিলম্বে হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পৃক্ততা: এই দিনটিতেই সাধারণ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় নেমে আসেন। ঢাকায় রামপুরা, প্রগতি স্মরণি ও কুড়িল বিশ্বরোডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেন, যা আন্দোলনকে আরও বেগবান করে।
১৬ জুলাইয়ের এই রক্তপাত ও আত্মত্যাগের পথ ধরেই পরবর্তী সময়ে সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’, কারফিউ এবং চূড়ান্ত অর্থে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়।