সেমিনারে মূল প্রবন্ধ

ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে সাইবার অপরাধ বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। ব্যাংকিং ব্যবস্থা, সরকারি তথ্যভাণ্ডার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো, টেলিযোগাযোগ, ই-কমার্স এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগ- সবকিছুই এখন ডিজিটাল অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল। ফলে সাইবার আক্রমণ, তথ্য চুরি, পরিচয় জালিয়াতি, ম্যালওয়্যার, র্যানসমওয়্যার, অনলাইন প্রতারণা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর প্রতারণার বিরুদ্ধে কার্যকর আইন থাকা জরুরি এবং অপরিহার্য।
কিন্তু বাংলাদেশের সাইবার আইন নিয়ে আলোচনাটি কেবল সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। গত প্রায় দুই দশকে এই আইনগুলোর সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সাংবাদিকতা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, পুলিশি ক্ষমতা এবং রাষ্ট্রীয় নজরদারির প্রশ্নও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়েছে।
বাংলাদেশের সাইবার আইনকে তাই একটি ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়ে দেখা প্রয়োজন। তথ্য-প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ (Information and Communication Technology Act, 2006) থেকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ (Digital Security Act, 2018); সেখান থেকে সাইবার নিরাপত্তা আইন (Cyber Security Act, 2023); এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ (Cyber Protection Ordinance, 2025) এবং বর্তমান সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ (Cyber Protection Act, 2026)- এই ধারাবাহিকতা দেখলে বোঝা যায়, আইন পরিবর্তিত হয়েছে, কিন্তু কিছু মৌলিক বিতর্ক বারবার ফিরে আসছে।
১. তথ্য-প্রযুক্তি আইন ২০০৬ থেকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮
বাংলাদেশে ডিজিটাল অপরাধ মোকাবিলার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ আইনগত কাঠামো ছিল তথ্য-প্রযুক্তি আইন। এই আইনের বিশেষ করে ধারা ৫৭-এর প্রয়োগ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক মাধ্যমে এমন কোনো তথ্য প্রকাশ বা প্রচার করলে, যা মিখ্যা, অশ্লীল বা মানহানিকর, কাউকে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হতে উদ্বুদ্ধ করে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটায় বা এমন সম্ভাবনা সৃষ্টি করে, রাষ্ট্র বা কোনো ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করতে পারে, অথবা কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উসকানি সৃষ্টি করে তাহলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিধান ছিল।
এ অপরাধের জন্য ২০১৩ সালের সংশোধনের পর শাস্তি হিসেবে অনধিক ১৪ বছর এবং অন্যূন ৭ বছর কারাদণ্ড এবং অনধিক ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান করা হয়, একই সঙ্গে এ অপরাধকে অ-জামিনযোগ্য ও আমলযোগ্য করা হয়।
ধারা ৫৭-এর ব্যাপক সমালোচনা এবং এর প্রয়োগ নিয়ে সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ২০১৮ সালে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬-এর
বিতর্কিত ৫৭ ধারাসহ কয়েকটি ধারা বিলুপ্ত করে একটি নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়। এর ধারাবাহিকতায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ প্রণীত হয় এবং ৫৭ ধারা বিলুপ্ত করা হয়।
তবে ৫৭ ধারায় থাকা মানহানি, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা বা ডিজিটাল মাধ্যমে ভয় বা উসকানি সৃষ্টির মতো বিষয়গুলো নতুন আইনের বিভিন্ন ধারায় পৃথকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ফলে ২০১৮ সালে নতুন আইনটি একদিকে ৫৭ ধারাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করলেও, অন্যদিকে এর আওতাভুক্ত বেশ কিছু অপরা নতুন কাঠামোর অধীনে বহাল রাখে।
এ কারণেই আইনটি প্রণয়নের সময়ও বিভিন্ন মহল থেকে এর কয়েকটি ধারা নিয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সাংবাদিকতার ওপর সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। আইনটি কার্যকর হওয়ার পর এর কয়েকটি ধারা বিশেষভাবে বিতর্কের জন্ম দেয়। Human Rights Watch-সহ বিভিন্ন সংগঠন অভিযোগ করে যে আইনের কিছু অপরাধের সংজ্ঞা অতিরিক্ত বিস্তৃত ও অস্পষ্ট এবং এর ফলে বৈধ মতপ্রকাশও ফৌজদারি মামলার আওতায় পড়তে পারে।
এই আইনের ধারা ২১-এ মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতির পিতা, জাতীয় সংগীত বা জাতীয় পতাকার বিরুদ্ধে ‘প্রপাগান্ডা বা প্রচারণা’ চালালে ১০ বছর কারাদণ্ডের বিধান ছিল। ২০১৯ সালের ১৭ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকীতে বরিশালের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম শ্রদ্ধা জানানোর সময় বামন হাত দিয়ে ফুল ধরে ছবি তোলায় এক বছর কারাদণ্ড হয়। এরকম আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে। ধারা ২৮ ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুভূতিতে আঘাতের বিষয়টি অপরাধের আওতায় আনে। ধারা ২৯ অনলাইন মানহানিকে ফৌজদানি অপরাধ হিসেবে রাখে। ধারা ৩১ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করা, অস্থিরতা বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পানে এমন বক্তব্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা রাখে। ধারা ৩২ Official Secrets Act-এর অপরাধ ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটনের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির বিধান করে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ধারা ৪৩। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পুলিশকে পরোয়ানা ছাড়াই তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেফতারের ক্ষমতা দেওয়ার কারণে এই বিধানও সমালোচিত হয়।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫ এবং ২৯ ধারায় অনলাইনে যে কোনো বক্তব্য, সংবাদ, লেখাকে আক্রমণাত্মক, মিথ্যা, মানহানিকর আখ্যা দিয়ে মামলার সুযোগ ছিল। মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছেন- এ অভিযোগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি মামলা করেছিলেন ছাত্রলীগ নেতারা। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে এই মামলায় অভিযোগপত্রও গৃহীত হয়েছিল। তারেক রহমান অনলাইনে বক্তব্যের মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমানের অবমাননা এবং মানহানি করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
২. সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩
নানাবিধ বিতর্কের মুখে ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পরিবর্তন করে ২০২৩ সালে আওয়ামী সরকার সাইবার নিরাপত্তা আইন (Cyber Security Act, 2023) প্রণয়ন করে। এটা ছিল শুধু নামেরই পরিবর্তন। নাগরিক উদ্বেগের বিষয়গুলোর কোনো সুরাহা এ আইনে পরিলক্ষিত হয়নি। উদাহরণ হিসেবে, ২০২৩ সালের আইনের ধারা ২৯-এ অনলাইন মানহানি অপরাধ হিসেবে রাখা হয়। এই আইনেও জাতির পিতাকে অবমাননা, কোনো ব্যক্তির সম্পর্কে মানহানিকর বক্তব্য, আক্রমণাত্মক বক্তব্যকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে ওই আইনে মানহানির জন্য ১০ বছর কারাদণ্ডের বদলে ২৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান করা হয়।
সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিজিটাল ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ হাজার ৪৩৬টি মামলায় ৪ হাজার ৫২০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। এসব মামলার ৬০ শতাংশের বাদী ছিলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
শেখ হাসিনা ও ব্যবসায়ী নাফিজ শারাফাতকে বিদ্রুপ করে আঁকা কার্টুন ফেসবুকে পোস্ট করায় ২০২০ সালের মে মাসে লেখক মুশতাক আহমেদকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার করেছিল র্যাব। সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক কথাবার্তা ও গুজব ছড়ানোর মামলায় তাঁর জামিন আবেদন ছয়বার নাকচ হয়। ২০২১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি কারাগারে তাঁর মৃত্যু হয়।
৩. অন্তর্বর্তী সরকারের সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫
২০২৫ সালের মে আসে অন্তর্বর্তী সরকার সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল করে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ জারি করে।
২০২৫ সালের অধ্যাদেশের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন ছিল আগের সাইবার নিরাপত্তা আইনের বেশ কিছু বিতর্কিত ‘মতপ্রকাশ-সংক্রান্ত’ ধারা বাদ দেওয়া। যেমন- মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু, জাতীয় প্রতীক নিয়ে বক্তব্য, অনলাইন মানহানি, মিথ্যা বা আপত্তিকর তথ্য প্রকাশ ইত্যাদি নিয়ে যে ধারাগুলো নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ছিল, সেগুলোর নয়টি ধারা বাদ দেওয়া হয়। এসব ধারায় চলমান মামলাগুলোও বাতিল করার ব্যবস্থা করা হয়। অর্থাৎ, আগের আইনের তুলনায় অনলাইন বক্তব্যকে অপরাধ হিসেবে দেখার পরিধি কমানো ছিল ২০২৫ অধ্যাদেশের অন্যতম প্রধান পরিবর্তন।
অধ্যাদেশটি প্রকৃত সাইবার অপরাধ দমনের ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়। এতে হ্যাকিং, পরিচয় চুরি, সাইবার সন্ত্রাসের পাশাপাশি ব্যক্তিগত বা অন্তরঙ্গ ছবি-ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া, তা প্রকাশের ভয় দেখিয়ে অর্থ বা সুবিধা আদায়, যৌন হয়রানি এবং শিশুদের যৌন নির্যাতনমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট প্রচারের মতো অপরাধগুলোকে স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট প্রাপ্তির অধিকারকেও সাইবার সুরক্ষার ধারণার অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ছিল, অধিকাংশ অপরাধকে জামিনযোগ্য করা, যাতে আগের আইনের মতো দীর্ঘ সময় ধরে বিচার-পূর্ব আটক থাকার ঝুঁকি কমে।
যদিও এই আইনেও জাতীয় নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা বা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ সৃষ্টিকারী বিষয়বস্তু বন্ধ বা অপসারণের ক্ষমতা রাখা হয়েছে। একইভাবে, বিশেষ পরিস্থিতিতে আদালতের পরোয়ানা ছাড়াই তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতাও পুরোপুরি বিলুপ্ত করা হয়নি।
৪. নির্বাচিত সরকার ও সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশটি সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬ নামে পাশ হয়। এই আইনটি ২১ মে ২০২৬ থেকে কার্যকর বলে গেজেটে উল্লেখ করা হয়। যদিও ইতোমধ্যেই এই আইনেরও সংশোধনীর পথে হাঁটছে সরকার। ১৩ সেপ্টেম্বর সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬ এর খসড়া প্রস্তাব প্রকাশ করা হয়েছে। আইসিটি বিভাগ এটি প্রকাশ করে মাত্র ১০ দিনের মধ্যে (২৩ সেপ্টেম্বর) মতামত জমা দিতে বলা হয়।
আইন ও খসড়া পর্যালোচনা
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও পরবর্তী সাইবার নিরাপত্তা আইনের যেসব বিধান নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও অপব্যবহারের অভিযোগ ছিল, ২০২৫ সালের সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে সেসবের বেশ কিছু বিধান বাদ দেওয়া হয়। বিশেষ করে মতপ্রকাশ, সমালোচনা ও অনলাইন বক্তব্যের সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েকটি বিতর্কিত অপরাধকে নতুন অধ্যাদেশের আওতার বাইরে রাখা হয়। তবে বর্তমানে প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়ায় পূর্ববর্তী আইনগুলোর কিছু বিতর্কিত বিধান পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন কিছু বিধান যুক্ত করার প্রস্তাবও রয়েছে, যেগুলো নিয়ে ইতোমধ্যে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এই সংশোধনী কার্যকর হলে নিপীড়নমূলক ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন বেনামে ফিরবে। সরকারের ভিন্নমত দমনে ব্যবহৃত হবে সাইবার সুরক্ষা আইন।
ওয়েবসাইট ও কনটেন্ট ব্লক করা
আইনের সংশোধনের ৮ ধারা অনুযায়ী, জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, তথ্য মন্ত্রণালয় বা বিটিআরসি কোনো আদালতের অনুমোদন ছাড়াই যেকোনো ওয়েবসাইট বা কনটেন্ট ব্লক বা অপসারণ করতে পারবে। যদি তাদের মনে হয় যে কোনো তথ্য, ভুল তথ্য বা গুজব: (ক) দেশের নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারে; (খ) ধর্মীয় বা জাতিগত ঘৃণা ছড়াতে পারে; (গ) অপরাধে উসকানি দেয়; বা (ঘ) কোনো ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের মানহানি করে।
বিদ্যমান আইনে কোনো তথ্যের কারণে যদি ক, খ, গ উপধারায় বর্ণিত ঘটনা ঘটে, তবে কনটেন্ট ব্লক করা যায়। কিন্তু আইনের সংশোধনের বলা হচ্ছে, যদি কোনো তথ্য, গুজবা বা অপতথ্যের কারণে এই সব ঘটনা ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে সরকার মনে করে, তাহলেও কনটেন্ট ব্লক করা যাবে। অতীত অভিজ্ঞতা বলে, এই ধরনের ক্ষমতা অপব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবার গুজব ও অপতথ্যের যে ব্যাখ্যা অস্পষ্টভাবে আইনের সংশোধনের খসড়ায় রয়েছে, তাতে যে কোনো তথ্য, সমালোচনা, বিদ্রুপ, ব্যঙ্গ, হাস্যরস, মিম, স্যাটায়ারকে গুজব ও অপতথ্য হিসেবে আখ্যা দেওয়া সম্ভব।
৮(ঘ) উপধারায় যুক্ত করা হচ্ছে, ‘কোনো ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের মানহানি করে’। রাষ্ট্রের মানহানী বিষয়টি খুবই বিমূর্ত। কীসে রাষ্ট্রের মানহানি হয় তা স্পষ্ট নয়। আইনের সংশোধনীর খসড়ায় ২৫ ধারায় মানহানির ব্যাখ্যা রয়েছে, তা ব্যক্তির মানহানি সংক্রান্ত। আইনের সংশোধনের খসড়ায় রাষ্ট্রের মানহানির ব্যাখ্যা নেই। ফলে যে কোনো কথা, বক্তব্য, তথ্য, সমালোচনা, বিদ্রুপ, বঙ্গ, হাস্যরস, মিম, স্যাটায়ারকে রাষ্ট্রের মানহানিকর আখ্যা দেওয়া সম্ভব হবে সরকারের পক্ষে।
আইনের ৮(৩) উপধারায় বলা হয়েছে, কোনো কনটেন্ট ব্লক করলে সরকার এর কারণ জনসম্মুখে প্রকাশ করবে স্বচ্ছতার স্বার্থে। কিন্তু সংশোধনীতে এ বিধান রাখা হচ্ছে না। ফলে সরকার গোপনে কোনো কনটেন্ট ব্লক করলে, ভুক্তভোগীর পক্ষে তা প্রমাণ করাই কঠিন হবে।
বিদ্যমান আইনে বলা হয়েছে, কোনো কনটেন্ট ব্লক করা হলে ৩ দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নিতে হবে। তা না করলে বা ট্রাইব্যুনাল অনুমতি না দিলে কনটেন্ট আনব্লক করতে হবে। কিন্তু সংশোধনীতে বলা হয়েছে, সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিকে আদালতে যেতে হবে। আদালত তা নিষ্পত্তি করবেন। কিন্তু আদালত আদেশ দিলেও, সরকার কনটেন্ট আনব্লক করবে কী না, তা বলা নেই। দ্বিতীয় প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে, সরকার যেহেতু ব্লকের তথ্য প্রকাশ করবে না, তাই সরকারের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আদালতে যাওয়ার সুযোগ ক্ষীণ।
কাউন্সিল পুনর্গঠনের প্রস্তাব
বিদ্যমান আইনের ১২ ধারায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল রয়েছে। সংশোধনীতে কাউন্সিলে স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদকে সদস্য করার প্রস্তাব করা হয়েছে। মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যানকে বাদ দিলে পুরো কাউন্সিল সরকারের একটি অংশে পরিণত হবে।
যৌন হয়রানি, ব্ল্যাকমেইলিং এর সঙ্গে মানহানি
সংশোধীত খসড়ার ২৫ ধারায় যৌন হয়রানি, সাইবার ব্ল্যাকমেইলিং এর সঙ্গে মানহানি বা বুলিং বা হেয়প্রতিপন্ন করাকে যুক্ত করা হয়েছে। ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, এমন কোনো কনটেন্ট যা কোনো ব্যক্তির মর্যাদা বা সামাজিক অবস্থানকে ক্ষুন্ন করে, তাহলে এটি একটি অপরাধ। এ অপরাধের শাস্তি অনধিক পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড।
এখানে ‘মানহানিকর’ সংজ্ঞায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্বারা সম্পাদিত ‘মিথ্যা’ বা ‘ক্ষতিকারক’ তথ্যকেও যুক্ত করা হয়েছে, যা শিল্প বা ব্যঙ্গাত্মক মতপ্রকাশকেও অপরাধী বানাতে পারে।
বলা হচ্ছে, ‘ব্যক্তির সুনাম মর্যাদা ক্ষুন্ন করিবার উদ্দেশ্যে…..’। কোন কথা লেখা মিম স্যাটায়ার ব্যঙ্গ বিদ্রুপে ব্যক্তির সুনাম মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়, তা আইন দিয়ে সজ্ঞায়িত করা কঠিন। যেমন, যারা ব্যাংক লুট করেছেন, তাদের এইসব অপকর্মের তথ্য উন্মোচন করলেও এই সংজ্ঞায় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা সম্ভব।
একই কথা প্রযোজ্য হেয়প্রতিপন্নের ব্যাখ্যায়। আইনের সংশোধনীর খসড়ায় হেয়প্রতিপন্ন এতে বলা হয়েছে অন্যের কাছে অপমানিত, তুচ্ছ, নিকৃষ্ট বা অসম্মাণজনক হিসেবে প্রতীয়মান হলে তা হেয়প্রতিপন্ন। এই ব্যাখ্যার কারণে আইনের ব্যাপক অপব্যবহার হবে। কারণ, একজন অপরাধীর অপরাধ প্রকাশ করা হলে, সে এতে অন্যের কাছে অপমানিত, তুচ্ছ, নিকৃষ্ট বা অসম্মানীত হয়েছে অভিযোগ তুলতে পারবে।
গুজব ও অপতথ্য প্রচার এবং ধর্মীয় ও জাতিগত বিদ্বেষ
ধারা ২৬ এ কোনো অপতথ্য বা গুজব প্রকাশকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। সাইবার স্পেসে এমন কোনো কিছু প্রকাশ বা প্রচার করাকে অপরাধ বলা হয়েছে, যা ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক ঘৃণামূলক বা জাতিগত বিদ্বেষমূলক। এই অপরাধ হলে দুই বছর কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
গুজব, অপতথ্যের ব্যাখ্যা অস্পষ্ট। এই সুযোগে নিপীড়নে হতে পারে অতীতের মত। যেমন গুজবের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ‘এমন কোনো অসমর্থিত বা অযাচাইকৃত তথ্য, সংবাদ বা দাবি, যা জনমনে বিভ্রান্তি, আতঙ্ক, উত্তেজনা বা সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে বা করিবার সম্ভাবনা রাখে।’
অপতথ্যের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ‘এমন কোনো মিথ্যা, বিকৃত বা বিভ্রান্তিকর তথ্য, যা ব্যক্তি, জনসাধারণ, প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রকে বিভ্রান্ত, প্রতারিত বা ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে তৈরি, প্রকাশ বা প্রচার করা হয়।’
কোন বক্তব্য বিবৃতি গুজব বা অপতথ্য তা নির্ধারিত হবে কীভাবে? ফলে যে কোনো বিদ্রূপ, ব্যঙ্গ, হাস্যরস, মিম, স্যাটায়ারকে গুজব ও অপতথ্য হিসেবে আখ্যা দেওয়া সম্ভব। কারণ এসব সমালোচনা আক্ষরিক নয়, রূপক হিসেবে হয়। ফলে যে কোনো হাস্যরসকে গুজব তকমা দেওয়া সম্ভব।
তল্লাশি ও জব্দ
ধরা ৩৪ অনুসারে পুলিশ অফিসার চাইলেই যে কারো কম্পিউটার ও ডিজিটাল ডিভাইস তল্লাশি ও জব্দ করতে পারবেন। শর্ত এই যে, “পুলিশ অফিসারের এইরূপ বিশ্বাস করিবার কারণ থাকে যে, এই আইনের অধীনে কোনো অপরাধ সংঘটিত হইয়াছে বা সংঘটিত হইবার সম্ভাবনা রহিয়াছে।”
জামিন অ-যোগ্যতা
এই আইনের বেশকিছু অপরাধ অ-জামিনযোগ্য বলে ঘোষণা করা হয়েছে। যেমন: গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোতে বে-আইনি প্রবেশ বা হ্যাকিং (ধারা ১৭), কম্পিউটার ও ডিজিটাল ডিভাইসে বে-আইনি প্রবেশ (ধারা ১৮), কম্পিউটার সিস্টেম ও সাইবার স্পেসের ভৌত অবকাঠামোর ক্ষতিসাধন (ধারা ১৯), সাইবার স্পেসে প্রতারণা (ধারা ২২), সাইবার সন্ত্রাসী কার্য সম্পাদনের অপরাধ (ধারা ২৩)।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের মূল সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়নের পর ১ জুলাই একটি সংক্ষিপ্ত সংশোধনী আনা হয়। ওই সংশোধনীর মাধ্যমে মূল আইনের সাইবার স্পেসে জালিয়াতি-সংক্রান্ত ধারা ২০ বিলুপ্ত করা হয়, যেখানে সাইবার স্পেসে জুয়া খেলা, জুয়ার পোর্টাল/অ্যাপ তৈরি বা পরিচালনা এবং জুয়ার প্রচার-সংক্রান্ত অপরাধের বিধান ছিল।
উপসংহার ও সুপারিশ
সাইবার নিরাপত্তার নামে এমন কোনো আইন প্রণয়ন করা উচিত নয়, যা নাগরিকের কণ্ঠরোধ বা ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। কারণ প্রযুক্তি ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা-দুটিই পরিবর্তনশীল; কিন্তু নাগরিকের অধিকার ও আইনের শাসনের প্রশ্নটি দীর্ঘস্থায়ী। আজ যে ক্ষমতা প্রয়োগ করা হচ্ছে, আগামী দিনে সেই ক্ষমতার প্রয়োগের শিকার যে কেউ হতে পারেন। তাই সাইবার নিরাপত্তার নামে অতিরিক্ত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা নয়-প্রয়োজন সুস্পষ্ট আইন, জবাবদিহি এবং নাগরিক অধিকারের সুরক্ষা।
এই বাস্তবতা ও অভিজ্ঞতার আলোকে, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নাগরিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে নিম্নলিখিত সুপারিশগুলো তুলে ধরা হলো:
১. সাইবার আইনকে মূলত প্রকৃত সাইবার অপরাধকেন্দ্রিক করা
হ্যাকিং, পরিচয় চুরি, অনলাইন প্রতারণা, সাইবার হামলা, আর্থিক অপরাধ, যৌন হয়রানি ও শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তার মতো প্রকৃত সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় আইনের প্রধান গুরুত্ব দেওয়া।
২. মতপ্রকাশ ও সাইবার অপরাধকে আলাদা করে দেখা
সরকারের সমালোচনা, ভিন্নমত প্রকাশ বা সাংবাদিকতার কাজকে যেন স্বাভাবিকভাবে সাইবার অপরাধ হিসেবে গণ্য করা না হয়।
৩. অস্পষ্ট ও ব্যাপক অর্থবোধক শব্দের ব্যবহার কমানো
“ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ”, “অশান্তি সৃষ্টি”, “আপত্তিকর বিষয়বস্তু” ইত্যাদির মতো অস্পষ্ট শব্দের পরিবর্তে অপরাধের সুস্পষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া, যাতে আইনের অপব্যবহারের সুযোগ কমে।
৪. মানহানিকে সাইবার অপরাধ হিসেবে যুক্ত না করা
মানহানির জন্য পৃথক প্রচলিত আইন থাকায় সাইবার সুরক্ষা আইনে নতুন করে কারাদণ্ডের বিধান না রাখা উচিৎ।
৫. গুজব ও অপতথ্যের ক্ষেত্রে ‘ইচ্ছাকৃত ক্ষতি’ প্রমাণ বাধ্যতামূলক করা
শুধু কোনো তথ্য ‘ভুল’, ‘অযাচাইকৃত’ বা ‘বিভ্রান্তিকর’ হলেই অপরাধ করা উচিত নয়। অপরাধ প্রমাণের জন্য একই সঙ্গে তথ্যটি মিথ্যা হওয়া, অভিযুক্ত ব্যক্তি তা মিথ্যা জানতেন বা জানার যথেষ্ট কারণ ছিল, এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতি, প্রতারণা, আতঙ্ক বা সামাজিক অস্থিরতা তৈরির উদ্দেশ্য ছিল-এসব উপাদান প্রমাণের বাধ্যবাধকতা থাকা উচিত।
৬. গুজব শনাক্তের স্বাধীন ও যাচাইযোগ্য প্রক্রিয়া তৈরি করা
কোন তথ্য গুজব বা অপতথ্য-তা নির্ধারণের ক্ষমতা কোনো একক সরকারি সংস্থা বা কর্মকর্তার হাতে না রেখে স্বাধীন বিশেষজ্ঞ, তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে নিরপেক্ষ যাচাই প্রক্রিয়া থাকা উচিত।
৭. ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৪০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান পুনর্বিবেচনা
গুজব ও অপতথ্যের ক্ষেত্রে অপরাধের মাত্রা, ক্ষতির পরিমাণ ও অভিযুক্তের উদ্দেশ্য বিবেচনায় আনুপাতিক ও স্তরভিত্তিক শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত।
৮. ব্লক করা কনটেন্টের কারণ প্রকাশ বাধ্যতামূলক রাখা
কোন কনটেন্ট কেন ব্লক করা হলো, কোন আইনি ধারায় করা হলো এবং কতদিনের জন্য করা হলো-এসব তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা থাকা উচিত।
৯. গ্রেপ্তার ও তল্লাশির ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতির গুরুত্ব বাড়ানো
বিশেষ জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া আদালতের পরোয়ানা ছাড়া গ্রেপ্তার বা তল্লাশির সুযোগ সীমিত করা এবং জরুরি ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে আদালতের নজরদারি নিশ্চিত করা।
১০. জামিনের সুযোগ নিশ্চিত করা
অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর অপরাধে অ-জামিনযোগ্য বিধান না রেখে অভিযুক্ত ব্যক্তির ন্যায়বিচার ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করা।
১১. সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা নিশ্চিত করা
জনস্বার্থে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, তথ্য প্রকাশ এবং সরকারের বা প্রতিষ্ঠানের সমালোচনামূলক প্রতিবেদন যেন সাইবার অপরাধের অভিযোগে অযথা বাধাগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করা।
১২. কোম্পানির লাইসেন্স বাতিলের বিধান কঠোরভাবে সীমিত করা
কোনো কোম্পানির কর্মী বা ব্যবহারকারী অপরাধ করলেই পুরো প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন বা লাইসেন্স বাতিলের সুযোগ রাখা উচিত নয়।
১৩. ডিজিটাল কনটেন্ট অপসারণে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া রাখা
কোনো ওয়েবসাইট বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিষয়বস্তু বন্ধ বা অপসারণের আগে স্পষ্ট কারণ, নির্দিষ্ট আইনি ভিত্তি এবং আপিলের সুযোগ রাখা।
১৪. সাইবার অপরাধ তদন্তে দক্ষতা বাড়ানো
পুলিশ, তদন্তকারী সংস্থা, প্রসিকিউশন ও বিচারকদের জন্য নিয়মিত সাইবার ফরেনসিক ও ডিজিটাল প্রমাণ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
১৫. আইনের রাজনৈতিক অপব্যবহার বন্ধ করা
সাইবার আইন যেন কোনো ব্যক্তি, সাংবাদিক, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বা ভিন্নমতাবলম্বীর কণ্ঠরোধ কিংবা হয়রানির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না হয়, তা নিশ্চিত করা।
১৬. সাইবার সচেতনতা বাড়ানো
শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নাগরিকদের সইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ।
