নয়াখবর
মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইনোভেশন ফেয়ারের সেরা ১০ উদ্ভাবকের জন্য লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক
সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১২:৫৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শীর্ষ ১০ উদ্ভাবককে ১ লাখ ও অংশগ্রহণকারীদের ১০ হাজার টাকা সিড মানি

গবেষণাকে শিল্পে রূপান্তরে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির রূপরেখা উপস্থাপন ইউনেস্কো চেয়ারের

বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও পেটেন্ট বৃদ্ধিতে জোর দিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান

জাতীয় পর্যায়ে প্রযুক্তিগত গবেষণা, বৈজ্ঞানিক ধারণার বাণিজ্যিকীকরণ এবং উদ্ভাবনী ইকোসিস্টেমের মাধ্যমে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার সুস্পষ্ট রূপরেখা নিয়ে রাজধানীর বিজয়সরণির নভোথিয়েটারে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’।

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর মেলার উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন চেয়ারম্যানড. এম মঈনুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি বিজ্ঞানী সংঘের (বায়েসা) সভাপতি ড. এ এসএম সাইফুল্লাহ।

উদ্বোধনী অধিবেশনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেনের জানান, মেলায় নির্বাচিত সেরা ১০ উদ্ভাবককে সিড মানি হিসেবে এক লাখ টাকা এবং অংশগ্রহণকারী সব উদ্ভাবককে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। বক্তব্যে বিজ্ঞান জ্ঞান সৃষ্টি করবে, প্রযুক্তি সক্ষমতা বাড়াবে এবং উদ্ভাবন অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনবে উল্লেখ করে গবেষণা থেকে উদ্ভাবন ও তা বাজারজাতকরণের মাধ্যমেই টেকসই সামাজিক রূপান্তর নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ‘টেকসই উদ্ভাবনী ইকোসিস্টেম ও ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রথম বাংলাদেশি ইউনেস্কো চেয়ার ও বুয়েটের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আনিসুজ্জামান। প্রবন্ধে তিনি তুলে ধরেন, ঐতিহাসিকভাবে সোমপুর বিহারের জ্ঞানচর্চা, মসলিন এবং আধুনিক যুগে পাটের জিনোম রহস্য উন্মোচনের গৌরব থাকলেও সমকালীন পেটেন্ট ও গবেষণায় দেশ পিছিয়ে রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া বছরে প্রায় দুই লাখ পেটেন্ট দাখিল করে বৈশ্বিক উদ্ভাবন সূচকে চতুর্থ অবস্থানে থাকলেও বাংলাদেশ থেকে জমা পড়ে মাত্র ৮৭টি, যা দেশকে বৈশ্বিক তালিকায় ১০৬তম স্থানে নিয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ২০২৫ সাল থেকে শুরু হওয়া ‘বাংলাদেশ ৩.০’ যুগে নলেজ ইকোনমির কোনো বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছাতে হলে বার্ষিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ এবং সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) ২ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এজন্য কেবল স্টার্টআপ বা শিক্ষার্থীদের ওপর নির্ভর না করে ফার্মাসিউটিক্যালস, ইলেকট্রনিক্স ও সেমিকন্ডাক্টর খাতের মতো হাইভ্যালু সেগমেন্টে সরাসরি শিল্পখাতকে সম্পৃক্ত করে প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে কাঠামোগত রূপান্তরের ওপর জোর দিতে হবে। উপস্থাপনায় ফার্মাসিউটিক্যাল খাতের স্টার্টআপ এসকে জেনের প্রতিষ্ঠাতা সাদাফ সাজের কার্যক্রমের চিত্রও তুলে ধরা হয়।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মেলা উদযাপন কমিটির তথ্যানুযায়ী, মেলা উপলক্ষে জমা পড়া মোট ৬৭১টি উদ্ভাবনী প্রকল্পের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই শেষে ৫০টি প্রকল্প প্রদর্শনের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১২ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর নভোথিয়েটারে আয়োজিত এ মেলার মূল লক্ষ্য উদ্ভাবক, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পখাত, বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকদের একই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করে উদ্ভাবনকে বাস্তব প্রয়োগ ও বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করা।
মেলার সামগ্রিক উদ্যোগে ‘Innovate to Market’ ধারণাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে—অর্থাৎ গবেষণাগার বা প্রোটোটাইপ পর্যায়ে উদ্ভাবন আটকে না রেখে শিল্প, বিনিয়োগ ও বাজারের মাধ্যমে মানুষের ব্যবহারযোগ্য পণ্য ও সেবায় রূপান্তর করা।