নয়াখবর
শনিবার, ৩০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আগামী ২ বছরে ঢাকাকে বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করা হবে: ডিএসসিসি প্রশাসক

অনলাইন ডেস্ক
মে ২৩, ২০২৬ ৩:১১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

 

আগামী দুই বছরের মধ্যে রাজধানীর বর্তমান চিত্র পরিবর্তন করে একে একটি মানসম্পন্ন ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে জাতীয় ঐক্য ও সমষ্টিগত নাগরিক প্রয়াসের ওপর জোর দিয়েছেন।

শনিবার রাজধানীর সিরডাপ ভবনে নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম আয়োজিত ‘ঢাকায় বৃষ্টি ভোগায় কেন!’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, “বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে প্রায়ই ঢাকাকে পৃথিবীর সবচেয়ে দূষিত, আবর্জনা-গন্ধময় ও মশার শহর হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। তবে এই অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব। জনগণ যদি ৫০ শতাংশ এবং সরকার বা সিটি কর্পোরেশন যদি বাকি ৫০ শতাংশ দায়িত্ব পালন করে, তবে শতভাগ সফল হওয়া অসম্ভব কিছু নয়।”

বর্তমান সরকারকে সময় দেওয়ার আহ্বান:

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নাগরিক শৃঙ্খলা প্রসঙ্গে মো. আবদুস সালাম বলেন, “গত জুলাইয়ের গণ-আন্দোলনের পর একটি নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। এখনই এই সরকারকে ফেলে দেওয়ার বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একটি সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য মানুষকে ম্যান্ডেট বা সময় দিতে হবে। অন্তত দুই-তিন বছর সময় দিয়ে দেখুন তারা জনগণের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারছে কি না।” রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বাদ দিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ও ঢাকার শৃঙ্খলা ফেরাতে সব রাজনৈতিক দলকে ইতিবাচক চিন্তা নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

ধানমন্ডিতে ‘নজরুল চত্বর’ গড়ে তোলার ঘোষণা:
এদিকে আজ দুপুরে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে জিয়া শিশু কিশোর মেলা আয়োজিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকীর আলোচনা সভায় অংশ নেন ডিএসসিসি প্রশাসক। সেখানে তিনি ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরের পাশে “নজরুল চত্বর” নামে একটি স্থায়ী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন।

প্রশাসক জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মতিতে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং আসন্ন ঈদের পর থেকেই এর নির্মাণ কাজ শুরু হবে। এই চত্বরে একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার গড়ে তোলা হবে, যেখানে নজরুলের সাহিত্য, গান, নাটক, প্রবন্ধ এবং জীবন ও কর্ম সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। পাশাপাশি গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য অধ্যয়ন ও গবেষণার বিশেষ সুযোগ রাখা হবে।

জাতীয় কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আবদুস সালাম বলেন, “শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষের জন্যই নজরুল সাহিত্য অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁর কবিতা ও গান মানুষের মধ্যে অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী চেতনা জাগ্রত করে। নজরুল প্রকৃত অর্থেই একজন জাতীয়তাবাদী ও মানবতাবাদী লেখক ছিলেন, যিনি ধর্মীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে জাতি, সমাজ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন।”