নয়াখবর
শনিবার, ৯ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড-এর ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও কোস্ট গার্ড দিবস-২০২৬ উদযাপন

অনলাইন ডেস্ক
এপ্রিল ২৮, ২০২৬ ৬:৪০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

কোস্ট গার্ডের ইতিহাস তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন

বক্তব্যের শুরুতেই আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধের লাখো শহিদকে-যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই বাংলাদেশ। আমি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে যিনি মহান স্বাধীনতার ঘোষণাসহ সময়োপযোগী নেতৃত্ব দিয়ে দেশকে মুক্ত করেছেন। আমি আরো স্মরণ করছি তৎকালীন জাতীয় নেতৃবৃন্দকে যারা দীর্ঘ লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার পটভূমি তৈরি করেছেন ও স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছেন। আমি শ্রদ্ধার সাথে আরো স্মরণ করছি ২০২৪ সালের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের সকল শহিদকে, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে মুক্ত হয়েছে আজ গণতন্ত্র। তাদের প্রত্যাশা ও গণআকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী বৈষম্যহীন দেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমি আরো স্মরণ করছি আপসহীন নেত্রী, গণতন্ত্রের মা, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া’কে যার সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো গণতন্ত্র, বাংলাদেশের মানুষ অর্জন করেছে গণতান্ত্রিক অধিকার।

স্বাধীনতা উত্তর দেশের সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য ১৯৯৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি “Guardian at Sea” মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে একটি আধাসামরিক স্বতন্ত্র বাহিনী হিসাবে ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড’ -এর যাত্রা শুরু হয়। মূলত বিএনপি সরকারের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে কোস্ট গার্ড গঠনের ভিত্তি তৈরি হয় যা পরবর্তীতে এই বাহিনীর সার্বিক উন্নতি, নীতি নির্ধারণ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য একটি পাথেয় হিসেবে কাজ করেছে। সূচনালগ্ন হতে এ বাহিনী সকল প্রতিকূলতা পেরিয়ে আজ উপকূলীয় এলাকার জনগণ তথা দেশের গণমানুষের মাঝে আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। দেশের সমুদ্র ও নদ-নদী বেষ্টিত উপকূলীয় এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষার জন্য বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড অনন্য ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। এ জন্য কোস্ট গার্ড-এর সকল সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।
­­­­­­­

আমরা জানি, জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় উপকূলীয় এলাকার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নৌপথে মাদকদ্রব্য পরিবহন, অস্ত্র ও মানব পাচার, অবৈধ চোরাচালান, জলদস্যুতা, অবৈধ মৎস্য আহরণ রোধসহ পরিবেশ বিরোধী অন্যান্য অপরাধ কার্যক্রম প্রতিহত করার দুঃসাহসিক কাজ কোস্ট গার্ড সম্পাদন করছে। তাদের পরিচালিত টহল কার্যক্রমের ফলে নিয়মিত সমুদ্র ও নদীপথের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি দুর্ঘটনায় পতিত বা বিপদগ্রস্ত নৌযান, নাবিক ও যাত্রীদের উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে। সেই সাথে উপকূলীয় এলাকার প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলায় স্থানীয় জনগণ, মৎস্যজীবী এবং নৌযান মালিকদের সচেতনতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক কাজে এ বাহিনী অত্যন্ত প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। বিশেষ করে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় কোস্ট গার্ডের সদস্যগণ বিপন্ন মানুষের জীবন রক্ষা এবং ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় বিশেষ অবদান রেখে চলছে।

পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট ও ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সুন্দরবন দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায়, জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণে, পর্যটন শিল্পে ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি সুন্দরবনে ডাকাতের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে যার অন্যতম শিকার আমাদের নিরীহ মৎস্যজীবী ও মধু সংগ্রহকারীগণ। গভীর বন, হাজারো নালা ও যোগাযোগবিহীন দুর্গম সুন্দরবনের নিরাপত্তা কোস্ট গার্ডের উপর বহুলাংশে নির্ভরশীল। কোস্ট গার্ড এ সকল ডাকাতদের নির্মূলকরণে প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করছে। গত এক বছরের কিছু বেশি সময়ে কোস্ট গার্ড সুন্দরবন এলাকায় মোট ২৯টি অভিযান পরিচালনা করে ৩৫ জন কুখ্যাত ডাকাত গ্রেফতার, ৪৭টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে। পাশাপাশি ডাকাতদের কাছ থেকে ৩০ জন জিম্মিকে উদ্ধার করেছে। একই সময়ে প্রায় ১৪৬ কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রকার কাঠ অবৈধ পাচারকারীদের হাত থেকে উদ্ধার করেছে। এসব সাফল্য কোস্ট গার্ড সদস্যদের পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও দায়িত্ববোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সুন্দরবনসহ উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী।

সুধীবৃন্দ,
বর্তমান সরকার বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সার্বিক উন্নয়নে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কোস্ট গার্ডের আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে সম্প্রতি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনসহ ০৩টি সার্ভেইলেন্স ড্রোন এ বাহিনীর বহরে যুক্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থা জাইকার অর্থায়নে একটি মাল্টিরোল রেসপন্স ভেসেল ও ০২টি অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল নির্মাণের কার্যক্রম দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি অতি সম্প্রতি খুলনা শিপইয়ার্ডের মাধ্যমে বুলেটপ্রুফ সুবিধাসম্পন্ন হাই-স্পিড বোট ক্রয়ের চুক্তি স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়েছে, যা এ বাহিনীর বহরে সংযুক্ত হলে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলের নিরাপত্তা আরো বৃদ্ধি পাবে। কোস্ট গার্ডের জাহাজ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়ায় আধুনিক ডকইয়ার্ডের নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। কোস্ট গার্ড বহরের অতি পুরাতন ৯টি জাহাজের প্রতিস্থাপক হিসেবে দেশীয় শিপইয়ার্ডে নতুন ৯টি প্যাট্রোল ভেসেল নির্মাণের প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি কোস্ট গার্ডের জন্য আগামীতে হেলিকপ্টারসহ মেরিটাইম সারভেইলেন্স সিস্টেম ও রেসকিউ ড্রোন ক্রয়ের পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। এ বাহিনীর আধুনিকায়নের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি করে প্রায় ১০,০০০-এ উন্নীত করার পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। আধুনিক জাহাজ ও অত্যাধুনিক সিস্টেমসমুহ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বহরে সংযোজিত হলে এ বাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে বলে আমার বিশ্বাস। তাছাড়া কোস্ট গার্ড সদস্যদের বাসস্থান সংকট দূরীকরণে মিরপুর জোয়ারসাহারা এলাকার বাউনিয়া এবং পূর্বাচলে জমি অধিগ্রহণের কাজ চলমান রয়েছে।

উপস্থিত সুধীবৃন্দ,
কোস্ট গার্ড প্রতিষ্ঠাতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী চিন্তা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দক্ষ ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বর্তমান সরকার কোস্ট গার্ডকে একটি আধুনিক ও যুগোপয়োগী বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বদ্ধপরিকর। আমাদের মূলমন্ত্র হলো: ‘সততা, নিষ্ঠা এবং সাহসিকতার মাধ্যমে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’কে বিশ্বের সামনে আত্মমর্যাদা সম্পন্ন জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।’ তাই দেশের সামুদ্রিক সম্পদ ও উপকূলীয় জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সততা ও দেশপ্রেমের সহিত দায়িত্ব পালন করে যাবে এবং যে কোনো পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয়পূর্বক সরকারকে সহায়তা প্রদান করে যাবে এবং এর মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনে আরো অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

প্রিয় কোস্ট গার্ড সদস্যবৃন্দ,
আপনাদের কর্মদক্ষতার জন্য আজ যারা পুরস্কৃত হয়েছেন আমি তাদের সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিবাদন জানাচ্ছি। এ বাহিনীর সকল সদস্যদের সামগ্রিক জীবন শান্তি ও কল্যাণময় হোক- এ কামনা করি। আজকের অনুষ্ঠানে আমাকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য মহাপরিচালক কোস্ট গার্ডসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। পরিশেষে আমি বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড-এর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে বক্তব্য শেষ করছি।