জেডি ভ্যান্সের এই বক্তব্যটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি প্রথমবারের মতো স্পষ্টভাবে স্বীকার করছে যে ইরান একটি সম্ভাব্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিলে প্রবেশাধিকার পেতে পারে, তবে তা সম্পূর্ণরূপে শর্তসাপেক্ষ।
মূল বক্তব্যের সারাংশ:
প্রশ্ন: ইরান বলছে তারা ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিলে প্রবেশাধিকার পাবে। এটা কি সত্য?
জেডি ভ্যান্স: “এ ধরনের সুবিধা তারা পেতে পারে, যদি তারা চুক্তির অধীনে নিজেদের দায়বদ্ধতা পূরণ করে।”
এছাড়া তিনি বলেন: “আমরা উপসাগরীয় (গালফ) দেশগুলোর ইরানের পুনর্গঠনে বিনিয়োগের ব্যাপারে উন্মুক্ত, তবে শুধুমাত্র তখনই, যখন ইরান প্রয়োজনীয় প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে।”
রাজনৈতিক তাৎপর্য
১. ওয়াশিংটন সরাসরি অর্থ দিচ্ছে না
ভ্যান্স জোর দিয়ে বলেছেন যে এটি মার্কিন করদাতাদের অর্থ নয়; সম্ভাব্য অর্থায়ন আসবে উপসাগরীয় রাষ্ট্র ও বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে।
২. ইরানের জন্য অর্থনৈতিক প্রণোদনা
ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি সীমিত করা, আন্তর্জাতিক পরিদর্শন মেনে নেওয়া এবং চুক্তির অন্যান্য শর্ত পালন করতে হবে। এসব পূরণ হলে ধাপে ধাপে বিনিয়োগ, নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
৩. ট্রাম্প প্রশাসনের পূর্ববর্তী অবস্থানের সঙ্গে বৈপরীত্য
এর আগে ট্রাম্প ও ভ্যান্স উভয়েই বলেছিলেন যে চুক্তির বিনিময়ে ইরানকে কোনো অর্থ দেওয়া হবে না। এখন ভ্যান্সের বক্তব্য দেখাচ্ছে যে সরাসরি অর্থ হস্তান্তর না হলেও ভবিষ্যতে বিশাল বিনিয়োগ তহবিলে প্রবেশাধিকার দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।
সংক্ষেপে, ভ্যান্স সরাসরি ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিলের অস্তিত্ব অস্বীকার করেননি; বরং বলেছেন, ইরান যদি চুক্তির সব শর্ত পূরণ করে, তাহলে গালফ দেশগুলোর অর্থায়নে গঠিত এমন একটি পুনর্গঠন ও বিনিয়োগ তহবিলে প্রবেশাধিকার পেতে পারে।
মাসুমুর রহমান খলীলির ফেসবুক ওয়াল থেকে
