বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আমরা গত ৩০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ১৪ টি বোয়িং ক্রয়ের চুক্তি সাক্ষর করেছিলাম। ৩০ এপ্রিল তারিখে স্বাক্ষরিত ক্রয় চুক্তির Right to Purchase Additional Aircraft এর আলোকে গত ২৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার নিউইয়র্কে অতিরিক্ত ১১ টি বোয়িং ক্রয়ের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
নতুন স্বাক্ষরিত ১১ টি এয়ারক্রাফট এর মধ্যে ৫ টি Boeing 787-10 (Wide Body) এবং ৬ টি Boeing 737-8 Max (Narrow Body) । ৩০ এপ্রিল তারিখে স্বাক্ষরিত ক্রয় চুক্তি অনুযায়ী একই দরে সম্পূরক চুক্তি করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে মোট ২৫ টি বোয়িং ক্রয়ের চুক্তি করা হলো। তন্মধ্যে ২ টি B787-9, ১৩ টি B787-10 সহ মোট ১৫ টি Wide Body এবং ১০ টি B737-8 Max Narrow Body। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ২০৩১ সালের নভেম্বরে প্রথম উড়োজাহাজ ডেলিভারি করা হবে এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে সর্বশেষ ডেলিভারি হবে। তবে আমরা ২০২৭-২৮ এর মধ্যে অন্তত একটি বিমান ডেলিভারির জন্য অনুরোধ জানিয়েছি।
এছাড়াও এয়ারবাস হতে ৪ টি A350-900 (Wide Body) এবং ৬ টি A321 Neo (Narrow Body) এয়ারক্রাফট ক্রয়ের লক্ষ্যে আলোচনা চলমান রয়েছে। আমরা টেকসই মিক্সড ফ্লিট তৈরির জন্য কাজ করছি।
যাত্রী চাহিদার আলোকে গঠিত বিমান-এর Network Fleet Planning, Aircraft range ও যাত্রী ধারণ ক্ষমতা, ফ্লাইটপ্রতি সম্ভাব্য যাত্রী এবং সাপ্তাহিক ফ্রিকুয়েন্সি বিবেচনায় wide-body এবং narrow-body উড়োজাহাজের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। Wide-body উড়োজাহাজ মূলত মধ্যপ্রাচ্যের উচ্চ চাহিদার র্যুট এবং ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দীর্ঘ র্যুটের জন্য এবং Narrow-body উড়োজাহাজ আঞ্চলিক ও স্বল্পদূরত্বের জন্য, যা বিমান-এর পুরাতন ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ গুলোকেও প্রতিস্থাপন করবে।
আমরা বিমানের বহর সম্প্রসারণে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্স মডেল অনুসরণ করছি। একটি ছোট লিগ্যাসী ক্যারিয়ার থেকে এখন ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের বহরে ১৬৭ টি উড়োজাহাজ রয়েছে যেখানে আমাদের রাষ্ট্রীয় ক্যারিয়ারে রয়েছে মাত্র ১৯ টি। আপনারা জানেন ইথিওপিয়ার তুলনায় আমাদের জিডিপি বেশি এবং আমাদের বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রী চাহিদাও বেশি। বর্তমানে আমাদের মোট চাহিদার তুলনায় ২০ শতাংশের কিছু বেশি বিমান পরিবহন করতে পারছে। বাকি ৮০ শতাংশই বিদেশী এয়ারলাইন্সের দখলে। তাই উড়োজাহাজ স্বল্পতা দূরীকরণে সরকার উড়োজাহাজ ক্রয়ের সময়োপযোগী উদ্যোগ নিয়েছে। এখানে কোনো ভূরাজনৈতিক প্রভাব নেই।
ক্রয়ের ফাইন্যান্সিংঃ
বিমান একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি। বিমানের নিজস্ব আয় ও উপযুক্ত অর্থায়নের মাধ্যমে ক্রয়ের মূল্য পরিশোধ করা হবে। ডেলিভারি ধাপে ধাপে হওয়ায় অর্থ পরিশোধ ও ধাপে ধাপে হবে। বিমানের আর্থিক সক্ষমতা, র্যুট-আয় ও ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বিবেচনায় নিয়েই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। কাজেই সরাসরি বাজেটের উপর চাপ পরিলক্ষিত হবেনা।
