দেশের বেসরকারি মাদরাসা, বিশেষ করে কওমি মাদরাসাগুলোর বিরুদ্ধে যাচাইবিহীন ও একপাক্ষিক সংবাদ প্রকাশ না করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ মাদরাসা সংরক্ষণ পরিষদ। সংগঠনটি বলেছে, কোনো অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত সত্যতা যাচাইয়ের আগেই কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা ন্যায়বিচার ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিপন্থী।
রোববার (৫ জুলাই) বিকেল ৩টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন পরিষদের নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সংস্থা বাংলাদেশের মহাসচিব শায়েখ সাদ সাইফুল্লাহ মাদানী।
আরো উপস্থিত ছিলেন, শায়েখ ক্বারী আবদুল হক
সভাপতি, হুফফাজুল কোরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ
প্রিন্সিপাল, মাহাদুল কুরআনিল কারিম বাংলাদেশ
শায়েখ সাদ সাইফুল্লাহ মাদানী
মহাসচিব, আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সংস্থা বাংলাদেশ।
মুহতামিম, মাদরাসা উম্মুল কুরা লি-উলূমিল কোরআন বাংলাদেশ।
শায়েখ ক্বারী নেসার আহমদ আন-নাসেরী
প্রিন্সিপাল, মারকাযুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসা
মাওলানা মোশাররফ হোসাইন মাহমুদ
প্রিন্সিপাল, মারকাযুল ফুরকান শিক্ষা পরিবার।
মাওলানা ক্বারী সাইদুল ইসলাম আসাদ
সদরে মুহতামিম, মাদরাসাতুস সাত্তার দারুল উলুম, গাজীপুর
মুফতি আবদুল কাইয়ুম মোল্লা
প্রিন্সিপাল, আর রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসা
মাওলানা জোবায়ের আহমদ
পরিচালক, মাদরাসাতু আহমদ, ডেমরা, ঢাকা।
মাওলানা আব্দুর রহমান মৃধা
মুহতামিম, জামিয়া আরাবিয়া কামরাঙ্গীরচর, ঢাকা
মাওলানা ক্বারী ইলিয়াস লাহোরী
প্রিন্সিপাল, মাদরাসাতুল কোরআন, ঢাকা
মাওলানা কাওসার আহমদ রাহমানী
মুহতামিম, মাদরাসা নূরুননবী, গুলশান, ঢাকা।
মুফতি আবু সাঈদ
প্রিন্সিপাল, জামিরিয়া ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসা, নারায়ণগঞ্জ
মাওলানা তাজুল ইসলাম
প্রিন্সিপাল, দারুত তাকওয়া, উত্তরখান
মাওলানা সালমান রহমান
প্রিন্সিপাল, আশরাফুল মাদারিস, উত্তরা
মুফতি আমির আহমদ রহমানী
প্রিন্সিপাল, বায়তুন নূর ইসলামিয়া মাদরাসা।
মাওলানা আশরাফ সাফিন
প্রিন্সিপাল, আর রহমান ইনস্টিটিউট, উত্তরা।
মাওলানা সুলাইমান নোমান তাফহীম
প্রিন্সিপাল, বাইতুল কোরআন মাদরাসা শিবচর, মাদারীপুর।
মাওলানা সুলাইমান ঢাকুবী
প্রিন্সিপাল, মদীনাতুল হুফফাজ মাদরাসা, চকবাজার।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, কওমি মাদরাসাগুলো যুগ যুগ ধরে ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ, সমাজসেবা ও দেশপ্রেম গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক সাফল্য দেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছে।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু মাদরাসা ও মাদরাসাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অসম্পূর্ণ ও একপাক্ষিক সংবাদ প্রকাশের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত বা পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়াই অভিযোগ প্রচার করা হচ্ছে, যার ফলে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, অতীতে এমন বহু ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সামাজিকভাবে হয়রানির শিকার হলেও পরবর্তীতে তদন্তে অনেক অভিযোগ ভিত্তিহীন বা অতিরঞ্জিত বলে প্রমাণিত হয়েছে। তবে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার সংবাদ অনেক সময় একই গুরুত্বে প্রচার পায় না।
সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে তার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার অবশ্যই হওয়া উচিত। তবে যথাযথ তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়।
গণমাধ্যমের প্রতি পাঁচ দফা আহ্বানে বলা হয়—সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য-প্রমাণ যাচাই, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ, একপাক্ষিক প্রচারণা থেকে বিরত থাকা, নির্দোষ প্রমাণিত হলে তা সমান গুরুত্বে প্রকাশ এবং দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে হবে।
দেশবাসীর প্রতিও আহ্বান জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, কোনো অভিযোগ শুনেই আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে হবে এবং যাচাই ছাড়া কোনো গুজব বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
একই সঙ্গে দেশের সব মাদরাসার মুহতামিম, পরিচালক ও শিক্ষকবৃন্দের প্রতি নিরাপদ শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। এ লক্ষ্যে মাদরাসায় সিসিটিভি স্থাপন, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে সতর্কতা, শিশু সুরক্ষা ও নৈতিকতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ গ্রহণের কার্যকর ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, দেশের মাদরাসাগুলোর মর্যাদা, সুনাম ও ন্যায়সঙ্গত অধিকার রক্ষার লক্ষ্যে শীর্ষস্থানীয় মাদরাসাগুলোর পরিচালকদের সমন্বয়ে ‘বাংলাদেশ মাদরাসা সংরক্ষণ পরিষদ’ গঠন করা হয়েছে।
পরিষদের পক্ষ থেকে আগামী ৩০ জুলাই রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটে একটি জাতীয় সম্মেলনের আয়োজনেরও ঘোষণা দেওয়া হয়। সম্মেলনে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-উলামা, শিক্ষাবিদ, ইসলামী চিন্তাবিদ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ ও হয়রানির শিকার হওয়া শিক্ষক ও মাদরাসা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরবেন বলে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে দেশের সাংবাদিক, সম্পাদক, গণমাধ্যম প্রতিনিধি, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের জাতীয় সম্মেলনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
