নয়াখবর
মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বৃক্ষরোপণকে টেকসই সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে —পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম

অনলাইন ডেস্ক
সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

টেকসই সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।

সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় বৃক্ষরোপণ সেলের সহায়ক টাস্কফোর্সের তৃতীয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণকে একটি টেকসই সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে। সরকারের ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচি সফল করতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থা এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। শুধু চারা রোপণের সংখ্যা বাড়ালেই হবে না; প্রতিটি চারার পরিচর্যা, রক্ষণাবেক্ষণ ও টিকে থাকার হার নিশ্চিত করতে হবে।

সভায় জানানো হয়, ২০২৬ সালে মোট ৫ কোটি ১৪ লাখ ৮৮ হাজার ৯৩০টি চারা রোপণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে নিজস্বভাবে উৎপাদিত চারা দিয়ে প্রায় ৩ কোটি ৮২ লাখ এবং নিজস্ব অর্থ ব্যবহার করে সংগৃহীত চারা দিয়ে প্রায় ১ কোটি ৩৩ লাখ চারা রোপণ ও পরিচর্যার পরিকল্পনা রয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থা তাদের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চারা রোপণ করছে। এর বাইরে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর তথ্য মতে, বিভিন্ন এনজিও ২৫ লক্ষ চারা রোপণ করেছে। স্থানিক তথ্য পেলে এই সংখ্যা মূল ডাটাবেজে অন্তর্ভূক্ত করা হবে। আগামী ডিসেম্বরে উপকূলীয় এলাকায় ম্যানগ্রোভ প্রজাতির চারা রোপণের ফলে এই বছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে সভায় জানানো হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় আবহাওয়া, মাটির গুণাগুণ ও প্রতিবেশের উপযোগী দেশীয় প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছকে বৃক্ষরোপণে অগ্রাধিকার দিতে হবে। নদী, খাল, বেড়িবাঁধ, সড়ক ও রেলপথের পাশের উপযোগী জমিতে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ করতে হবে এবং রোপিত চারার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। দুর্যোগ বা অন্য কোনো কারণে ক্ষতিগ্রস্ত চারা দ্রুত প্রতিস্থাপন করতে হবে। বৃক্ষরোপণের পরবর্তী চার বছর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যার পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর বিষয়েও সভায় গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) শামিমা বেগম এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ, কৃষি মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, এনজিও বিষয়ক ব্যুরো, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, সেতু বিভাগ ও বন অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলাম, টেকনিক্যাল এক্সপার্ট মো: জামাইল বশীর জেবি, প্রকৌশলী শাহ আদনান মাহমুদসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তাগণ সভায় অংশগ্রহণ করেন।