নয়াখবর
মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর: ভারতের উদ্বেগ বনাম বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ

অনলাইন ডেস্ক
জুন ২৭, ২০২৬ ৫:১৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

 

সাইফুল খান

২০২৬ সালের শুরুতে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং ফেব্রুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মালয়েশিয়া ও চীনকে বেছে নেওয়া দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের জন্ম দিয়েছে। বিগত দেড় দশকে প্রথাগতভাবে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানদের প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফরের গন্তব্য হিসেবে সাধারণত নতুন দিল্লিকে দেখা যেত। কিন্তু এবার সেই দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক প্রথা ভেঙে বেইজিংকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং বিশেষ করে তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও প্রতিরক্ষার মতো কৌশলগত ক্ষেত্রে চীনের সংগ্রাহক হওয়া ভারতকে গভীর উদ্বেগে ফেলেছে।
ভারতের শীর্ষ গণমাধ্যম ও থিংকট্যাঙ্কের একতরফা বিশ্লেষণের দিকে নজর দিলে সেটাই চোখে পড়ে।

দ্য হিন্দু পত্রিকার প্রবীণ কূটনৈতিক প্রতিনিধি কল্লোল ভট্টাচার্য লিখেছেন, “Bangladesh-China talks underway for Tarique Rahman’s first foreign visit”(তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের জন্য বাংলাদেশ-চীন আলোচনা চলছে)

‘দ্য হিন্দু’ তাদের প্রতিবেদনে স্পষ্ট করেছে যে, দিল্লির আসল মাথাব্যথা কেবল প্রটোকল বা প্রথম সফর এড়ানো নিয়ে নয়। বরং এই সফরের নেপথ্যে থাকা সুনির্দিষ্ট কৌশলগত এজেন্ডা,
বাংলাদেশ এই সফরে চীনের কাছে বহু প্রতীক্ষিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা (Teesta Master Plan) বাস্তবায়ন এবং মংলা বন্দরের আধুনিকীকরণে বড় অংকের বিনিয়োগের প্রস্তাব রাখছে। ভারতের মূল উদ্বেগ হলো, তিস্তা অববাহিকার ঠিক পাশেই চীনের বিশাল ড্রেজিং ও ব্যারেজ নির্মাণ প্রকল্প ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর (বিশেষ করে কৌশলগত শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’) নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল।

অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন (ORF)
এর বিশ্লেষক সোহিনী বোস, দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত উইংয়ের অ্যাসোসিয়েট ফেলো। তাঁর লেখার শিরোনাম “Why Bangladesh chose Malaysia and China before India for PM Rahman’s debut tour” (প্রধানমন্ত্রী রহমানের অভিষেক সফরে ভারতের আগে কেন মালয়েশিয়া ও চীনকে বেছে নিল বাংলাদেশ)

নতুন দিল্লিভিত্তিক এই শীর্ষ থিংকট্যাঙ্কের বিশ্লেষণে দিল্লির মনস্তাত্ত্বিক ও প্রভাব বলয় হারানোর ভয়টি ফুটে উঠেছে। সোহিনী বোসের মতে, প্রথমে মালয়েশিয়া সফরটি ছিল ঢাকার একটি ব্যবহারিক কৌশল, যাতে সরাসরি ভারতের সাথে শুরুতেই বড় কোনো কূটনৈতিক সংঘাত দৃশ্যমান না হয়। তবে মূল উদ্বেগটি তৈরি হয়েছে চীনের সাথে বাংলাদেশের বর্তমান ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতিকে কেন্দ্র করে। ওআরএফ-এর মূল্যায়ন অনুযায়ী, ঢাকা এখন দিল্লির একক প্রভাব বলয় থেকে বেরিয়ে তার কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

মনোহর পারিকর ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স স্টাডিজ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস (MP-IDSA)
এর শিরোনাম হলো- “Between Washington and Beijing: Bangladesh’s Constrained Strategic Autonomy” (ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মাঝে: বাংলাদেশের সীমিত কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন)

ভারতের এই শীর্ষ প্রতিরক্ষা থিংকট্যাঙ্কটি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা কূটনীতি এবং চীনের সাথে সামরিক অংশীদারিত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে, চীনের কাছ থেকে অ্যাডভান্সড যুদ্ধবিমান (জেএফ-১৭) ক্রয় এবং ড্রোনের যৌথ উৎপাদন সংক্রান্ত প্রাথমিক আলোচনাগুলো ভারতের পূর্ব সীমান্তে চীনের সরাসরি সামরিক নজরদারির পথ সুগম করতে পারে। আইডিএসএ-এর নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ যদি অর্থনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তবে ভারতের পূর্ব সীমান্তে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি হবে।
চ্যানেল নিউজ এশিয়া (CNA) এর আন্তর্জাতিক বিষয়ক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক দল হক আইয়ের শিরোনাম “Analysts view the decision to prioritise Kuala Lumpur and Beijing as practical rather than a direct snub of New Delhi” (বিশ্লেষকরা কুয়ালালামপুর এবং বেইজিংকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্তকে নয়াদিল্লির প্রতি সরাসরি অবজ্ঞা না দেখে একটি ব্যবহারিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন)

সিএনএ তাদের বিশ্লেষণে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার বর্তমান ‘অবিশ্বাস’ -এর গভীরতা পরিমাপ করেছে। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং সীমান্ত উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে ঢাকার বর্তমান নীতিনির্ধারকদের সাথে দিল্লির যে মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব তৈরি হয়েছে, চীন তার পূর্ণ সুযোগ নিচ্ছে বলে ভারতীয় কূটনৈতিক মহল মনে করছে। সিএনএ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত এই সফরটিকে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে কারণ এটি প্রমাণ করে যে ঢাকা এখন আর দিল্লির একক নির্দেশনায় নেই।

সাউথ এশিয়ান হ্যারাল্ড এর আঞ্চলিক ভূরাজনীতি ও অর্থনীতি গবেষণা উইংয়ের শিরোনাম: “China visit an acid test for Tarique’s ‘Bangladesh First’ policy”(তারেকের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির জন্য অ্যাসিড টেস্ট বা অগ্নিপরীক্ষা এই চীন সফর)

এই অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখানো হয়েছে যে, বাংলাদেশ বর্তমানে চীনের কাছ থেকে প্রায় ৪ থেকে ৯ বিলিয়ন ডলারের বিশাল উন্নয়ন তহবিল এবং বড় বিনিয়োগের প্রত্যাশা করছে। অর্থনৈতিক সক্ষমতার দিক থেকে ভারতের পক্ষে চীনের এই বিশাল আর্থিক প্যাকেজের সাথে প্রতিযোগিতা করা অসম্ভব। দিল্লির মূল উদ্বেগ হলো, মংলা পোর্টের সম্প্রসারণ এবং তিস্তা নদীর ড্রেজিং প্রজেক্টে যদি চীন সরাসরি অর্থায়ন ও নিয়ন্ত্রণ পেয়ে যায়, তবে ভারতের শিলিগুড়ি করিডোরের ঠিক নাগালে চীনের টেকনিক্যাল ও কৌশলগত উপস্থিতি ঘটবে।

ভারতীয় বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, তাদের উদ্বেগের মূল ক্ষেত্রসমূহ শিলিগুড়ি করিডোর ও তিস্তা অঞ্চলের নিরাপত্তা। চিকেনস নেকের কাছে চীনের অবকাঠামোগত প্রবেশ ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সংযোগের নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করতে পারে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া চীনের সাথে প্রতিরক্ষা ও সামরিক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি। চীনের সমরাস্ত্র ও যৌথ ড্রোন উৎপাদনের আলোচনার ফলে ভারতের চির-অস্থিতিশীল পূর্ব সীমান্তে চীনের সামরিক নজরদারি বৃদ্ধির কাল্পনিক আশঙ্কা। তাছাড়া প্রথম সফরে ভারতকে এড়িয়ে চীনকে বেছে নেওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের একক ভূরাজনৈতিক আধিপত্যের অবসান ঘটছে বলে তারা মনে করছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম এবং থিংকট্যাঙ্কগুলোর বিশ্লেষণ মূলত দিল্লি-কেন্দ্রিক নিরাপত্তা চশমা’ এবং ‘জিরো-সাম গেম’ মনস্তত্ত্ব দ্বারা পরিচালিত। বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, ভূকৌশলগত অবস্থান এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতার নিরিখে ভারতীয় বিশ্লেষণ একতরফা এবং সংকীর্ণ। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের সরকারপ্রধান তার প্রথম সফরের গন্তব্য নির্ধারণ করবেন দেশের জরুরি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে, কোনো প্রথা বা আঞ্চলিক শক্তির সন্তুষ্টির জন্য নয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরে চীনের ডালিয়ানে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (WEF) ‘সামার ডাভোস’ সম্মেলন অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তুলে ধরার একটি বড় বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম। অন্যদিকে, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার এবং রেমিট্যান্সের উৎস।

সুতরাং, এই সফর কোনো দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নয়, বরং সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্বার্থচালিত একটি প্রাগম্যাটিক সিদ্ধান্ত। ভারতের এই ক্ষোভ মূলত তাদের ঔপনিবেশিক আমলের মনস্তাত্ত্বিক ‘প্রভাব বলয়’ হারানোর ভয় থেকে তৈরি।

দিল্লির নিরাপত্তা জুজুকে প্রাধান্য দিয়ে উত্তরাঞ্চলের কোটি মানুষের বাঁচা-মরা নিয়ে জুয়া খেলতে পারেনা কোন দেশপ্রেমিক সরকার। ভারতীয় বিশ্লেষকেরা এই প্রজেক্টকে শুধু সামরিক অ্যাঙ্গেল থেকে দেখছেন, কিন্তু তারা বাংলাদেশের মানুষের অবর্ণনীয় কষ্টকে সম্পূর্ণ আড়াল করছেন। ভারত গত দেড় দশক ধরে তিস্তার ন্যায্য পানির হিস্যা চুক্তি ঝুলিয়ে রেখেছে। শুষ্ক মৌসুমে পানি না পাওয়ায় বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল মরুভূমি হয়ে যাচ্ছে, আর বর্ষায় আকস্মিক বন্যায় লাখ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি হারাচ্ছে।

বাংলাদেশ ভারতের কাছ থেকে পানি চেয়ে ব্যর্থ হয়ে এখন নিজের ভূখণ্ডের ভেতরে নদী ব্যবস্থাপনা, পানি সংরক্ষণাগার এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য ‘তিস্তা নদী ব্যাপক ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প’ হাতে নিতে বাধ্য হয়েছে।

ভারত নিজে পানি দেবে না, আবার বাংলাদেশ নিজের খরচে বা অন্য দেশের কারিগরি সহায়তায় নদী খনন করতে চাইলে তাকে ‘নিরাপত্তা হুমকি’ বলবে। এটি একটি চরম একতরফা ও অন্যায্য অবস্থান। বাংলাদেশের মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার দিল্লির কাল্পনিক ভয়ের চেয়ে অনেক বড়।

বাংলাদেশের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতি স্পষ্ট ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’। বাংলাদেশ কোনো ব্লকের রাজনীতিতে ঢুকছে না। ২০২৬ সালের এই অর্থনৈতিক ট্রানজিশন পিরিয়ডে বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর জন্য বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রয়োজন।

চীন এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে বড় উদ্বৃত্ত পুঁজির (Surplus Capital) দেশ, যা ভারতের পক্ষে এককভাবে বাংলাদেশকে দেওয়া অসম্ভব। বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা বা পাকিস্তান নয়; ঢাকা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ১৫ থেকে ১৭টি অর্থনৈতিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করছে, যা দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বাড়াবে।

যেকোনো সার্বভৌম দেশের সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়নের জন্য সস্তা, টেকসই এবং উন্নতমানের সমরাস্ত্র প্রয়োজন। বাংলাদেশ তার নিজস্ব বাজেট ও সামরিক উপযোগিতা অনুযায়ী চীন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপ থেকে অস্ত্র কিনবে এটি নিজস্ব অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত।

বাংলাদেশ ভারতের সীমান্তে কোনো উসকানিমূলক সামরিক কাঠামো তৈরি করছে না। কিন্তু ভারতীয় ডিফেন্স থিংকট্যাঙ্কগুলো (যেমন MP-IDSA) এমনভাবে বিশ্লেষণ করে যেন বাংলাদেশের সেনাবাহিনী সবসময় ভারতের ইচ্ছানুযায়ী চলবে। এই দৃষ্টিভঙ্গি বাংলাদেশের সামরিক স্বকীয়তাকে অস্বীকার করে।

উপসংহার: চীনের সাথে এই গভীর অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব ভারতের বিরুদ্ধে কোনো অক্ষ গঠন নয়, বরং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও ভূকৌশলগত ভারসাম্য রক্ষার স্বাভাবিক প্রয়াস। বাংলাদেশ একটি আত্মবিশ্বাসী রাষ্ট্র হিসেবে নিজের জাতীয় স্বার্থকে সবার ওপরে রাখবে এটাই স্বাভাবিক। দিল্লির সাউথ ব্লক অবশ্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করছে। তাদের কূটনৈতিক সূত্র মতে, ঢাকার সাথে ভারতের নিজস্ব ঐতিহাসিক ও দ্বিপক্ষীয় সমীকরণ রয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী জুলাই মাসের দিকে দিল্লি সফরে যেতে পারেন। এই সম্ভাব্য দিল্লি সফরটি প্রমাণ করবে যে, ঢাকা দিল্লির সাথেও পারস্পরিক সম্মান, সার্বভৌমত্ব ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, তবে তা বেইজিং বা অন্য কোনো দেশের সাথে অংশীদারিত্ব ত্যাগের বিনিময়ে নয়।

লেখক- ইতিহাস, রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশ্লেষক।