নয়াখবর
শনিবার, ৩০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রকল্পের ২৫ শতাংশ টাকা খরচ করতে পারেনি ১১ মন্ত্রণালয়-বিভাগ

online
মে ২৩, ২০২৬ ২:৪২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

#১০ মাসে এডিপিতে বাস্তবায়ন ৪১ শতাংশ
#এপ্রিল মাসে বাস্তবায়নের হার ৫ দশমিক ২২ শতাংশ
#এক টাকাও খরচ করতে পারেনি সংসদবিষয়ক সচিবালয়
#স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের ১৪টি প্রকল্পে বাস্তবায়ন হার মাত্র ১৮ শতাংশ
#স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ১৮টি প্রকল্পে বাস্তবায়নের হার মাত্র ২২ শতাংশ
#মোট এডিপির ১৮ শতাংশ খরচ করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ, যা সবচেয়ে বেশি
নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছর শেষ হতে আর বাকি আছে আর মাত্র দুমাস। অর্থবছরের (জুলাই-এপ্রিল) ১০ মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীতে (এডিপি) বাস্তবায়নে প্রকল্পের ২৫ শতাংশ খরচ করতে পারেনি ১১ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। এ সময়ে এডিপিতে খরচ হয়েছে ৮৬ হাজার ৫১৬ কোটি টাকা, যার বাস্তবায়ন হার ৪১ দশমিক ৪১ শতাংশ। বাকি দুই মাসে এডিপির বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

শনিবার(২৩ মে) পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়নের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছরে সংসদবিষয়ক সচিবালয়ের একটি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান আছে। এই প্রকল্পের কাজ করতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে মাত্র ২০ লাখ টাকা। কিন্তু চলতি অর্থবছরের ১০ মাস (জুলাই–এপ্রিল) পেরিয়ে গেলেও একটি টাকাও খরচ করা যায়নি।

আবার স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ১৮টি প্রকল্পে ৩ হাজার ১২৮ কোটি টাকা বরাদ্দ আছে। এই প্রকল্পের কর্মকর্তারা গত ১০ মাসে মাত্র ৬৯৩ টাকা খরচ করতে পেরেছেন। বাস্তবায়ন হার ২২ শতাংশ। এদিকে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের ১৪টি প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ আছে ১৩৫৪ কোটি টাকা। ১০ মাসে খরচ মাত্র ২৩৯ কোটি টাকা। এই বিভাগের বাস্তবায়ন হার প্রায় ১৮ শতাংশ।

অর্থবছরের ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও প্রকল্প বাস্তবায়নে তেমন অগ্রগতি নেই। ১১টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তাদের পুরো বছরের বরাদ্দের ২৫ শতাংশও খরচ করতে পারেনি। এসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগুলোর মধ্যে রয়েছে- সংসদবিষয়ক সচিবালয়; স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ; স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ; প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়; জননিরাপত্তা বিভাগ; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়; ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ; বাণিজ্য মন্ত্রণালয়; অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি); নির্বাচন কমিশন সচিবালয়; আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।

আইএমইডি জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে এডিপিতে ব্যয় হয়েছে ৮৬ হাজার ৫১৬ কোটি ৮ লাখ টাকা, যার বাস্তবায়নের হার ৪১ দশমিক ৪১ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে ব্যয় হয়েছিল ৯৩ হাজার ৪২৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। সে হিসাবে ব্যয় কমেছে ৬ হাজার ৯০৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। তবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের একই সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে ব্যয় কমেছে ৩৮ হাজার ৭৯৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা। ওই অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে এডিপিতে ব্যয় হয়েছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ৩১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, যা কর্মকর্তারা ‘স্বাভাবিক পরিস্থিতি’র সময় হিসেবে বিবেচনা করছেন।

আইএমইডির তথ্য বলছে, শুধু এপ্রিল মাসে এডিপিতে ব্যয় হয়েছে ১০ হাজার ৯০৮ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, যা বাস্তবায়নের হার ৫ দশমিক ২২ শতাংশ। আগের অর্থবছরে এই মাসে ব্যয় হয়েছিলো ১০ হাজার ৫৩০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, যা বাস্তবায়ন ৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ। গত ১০ মাসে থোক বরাদ্দসহ সবচেয়ে বেশি খরচ করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। মোট এডিপির ১৮ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ, যা টাকার অঙ্কে ২১ হাজার ১০৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। এর পরে রয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, মোট এডিপির ৫ দশমিক ৭৬ শতাংশ যা টাকার অঙ্কে ৯ হাজার ৬৪৮ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

আইএমইডির কর্মকর্তারা জানান, গত অর্থবছরে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে প্রশাসনিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছিল। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অনেক প্রকল্প পরিচালক ও ঠিকাদার সরে যান। এতে এডিপি বাস্তবায়ন কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সরকার পরিবর্তনের পর অনেক প্রকল্প পরিচালককে পাওয়া যায়নি। কেউ কেউ দুর্নীতির অভিযোগে সরে গেছেন, আবার নতুন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগেও সময় লেগেছে। পাশাপাশি বহু প্রকল্প পুনঃসংশোধন করতে হওয়ায় কার্যক্রম পুনরায় শুরুতে বিলম্ব হয়েছে।
এছাড়া সম্প্রতি অনুমোদিত নতুন সরকারি ক্রয়নীতির কারণে অনেক মন্ত্রণালয় ও বিভাগ দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু করতেও অতিরিক্ত সময় নিয়েছে। এসব কারণেই নির্ধারিত লক্ষ্য অনুযায়ী এডিপির অর্থ ব্যয় সম্ভব হয়নি বলে জানান কর্মকর্তারা।

এদিকে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর চলমান প্রকল্পগুলো নতুন করে পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়—এমন প্রকল্পগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আগামী মাসের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৩০০ চলমান প্রকল্পের পর্যালোচনা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এ কারণে অনেক প্রকল্পের বরাদ্দ আটকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে অর্থবছরের বাকি সময়ে এডিপি বাস্তবায়নের গতি আরও ব্যাহত হতে পারে বলে মনে করছেন পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা।