নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : খাদের কিনারে থাকা অর্থনীতি পুর্নগঠনে পাঁচ বছর মেয়াদী মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বিএনপি সরকার। পরিকল্পনায় ২০৩১ সালের জুনের মধ্যে দেশজ মোট উৎপাদন (জিডিপি) ৮ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশের নিচে আনার লক্ষ্য ধরা হয়েছে। এছাড়া দেশের মোট রাজস্ব আয় ৩ শতাংশ বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। ২০২৬ সালের জুন থেকে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত পরিবেশগত সুরক্ষা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন পুনরুদ্ধার, পুনর্গঠন এবং প্রবৃদ্ধি এই প্রধান তিনটি ধাপে নিশ্চিত করা হবে।
আজ সোমবার রাজধানীর পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিলের (এনইসি) সভায় অর্থনৈতিক কৌশলপত্র পণয়নের লক্ষ্যে পাঁচ বছর মেয়াদী এই পরিকল্পনা তুলে ধরবে পরিকল্পনা কমিশন। সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে, অর্থনৈতিক কৌশলপত্র পণয়ন নিয়ে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্ভাব্য ৫ শতাংশ থেকে বেশি। ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ৭ দশমিক ১ শতাংশ, ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ, ২০২৯-৩০ অর্থবছরে ৮ শতাংশ এবং ২০৩০-৩১ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ।
পরিকল্পনায় ২০৩১ সালের মধ্যে মোট বিনিয়োগ জিডিপির ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত করা এবং একই সময়ে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৯ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশ, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ, ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ৬ শতাংশ , ২০২৯-৩০ অর্থবছরে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২০৩০-৩১ অর্থবছরে ৫ শতাংশে মূল্যস্ফীতি নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
চলতি অর্থবছরসহ পরবর্তী চার বছরে মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার ধীরে ধীরে অবমূল্যায়নের পূর্বাভাস দিয়েছেন অর্থনৈতিক কৌশলপত্র পণয়ন কমিটির সভাপতি ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।
সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) তথ্য বলছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ডলারের বিপরীতে বিনিময় হার ১২৬.৩ টাকায় পৌঁছাতে পারে। পরবর্তী বছরগুলোতে তা ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১৩১ টাকা, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ১৩৪.৯ টাকা, ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ১৩৮ টাকা এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে ১৪০ টাকায় পৌঁছাতে পারে।
পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের পরিবেশগত সুরক্ষা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন পুনরুদ্ধার, পুনর্গঠন এবং প্রবৃদ্ধি এই প্রধান তিনটি ধাপের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।
২০২৬ সালের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের প্রথম ধাপে প্রকল্পের ভিত্তি স্থাপন এবং পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এ ধাপে মোট বরাদ্দের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ অর্থ ব্যয় করা হবে।
উল্লেখযোগ্য উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে চালকবিহীন আকাশযান (ড্রোন) এবং স্বয়ংক্রিয় পানি সরবরাহ যন্ত্রের পরীক্ষামূলক প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন। এ ছাড়া বৈদ্যুতিক ভৌগোলিক স্থানচিহ্নিতকরণের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ এবং বর্জ্য থেকে সম্পদ তৈরির খসড়া নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। পরিবেশ রক্ষায় অঙ্গার (কার্বন) বাজার এবং জীববৈচিত্র্য বিষয়ক বিশেষ কর্মীবাহিনী গঠনের পাশাপাশি তরুণদের জন্য পরিবেশগত কেন্দ্র চালুর পরিকল্পনাও এই ধাপে অন্তর্ভুক্ত।
২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অর্থনীতি পুর্নগঠনে দ্বিতীয় ধাপে উন্নয়ন কার্যক্রমের পরিধি এবং অবকাঠামো বিস্তারে গুরুত্ব দেওয়া হবে, যেখানে মোট বরাদ্দের ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ অর্থ ব্যয় করা হবে। এই সময়ে শহরগুলোতে বর্জ্য থেকে সম্পদ তৈরির বিশেষ সুবিধা বা স্থাপনা চালু করা হবে। জাতীয় পর্যায়ে সবুজ বা পরিবেশবান্ধব ভবন নির্মাণের সনদ প্রদান প্রক্রিয়া কার্যকর করার পাশাপাশি ভৌগোলিক তথ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূমির তালিকা সম্প্রসারণ করা হবে। এ ছাড়া পরিচ্ছন্ন নগর যাতায়াত ব্যবস্থার প্রসার এবং অঙ্গার সংক্রান্ত পরীক্ষামূলক প্রকল্পগুলোকে আনুষ্ঠানিক বিধিমালার আওতায় আনা হবে।
এছাড়া ২০২৭ সালের অক্টোবর থেকে ২০৩০ সালের ডিসেম্বরের পর্যন্ত তৃতীয় ধাপে প্রবৃদ্ধির কর্মপরিকল্পনার চূড়ান্ত এবং দীর্ঘতম এ ধাপে ব্যাপক জনবল ও সম্পদের ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। এতে বরাদ্দের ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ অর্থ ব্যয় হবে। এ পর্যায়ের মূল লক্ষ্য হলো উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং শক্তিশালী বাঁধ নির্মাণ সম্পন্ন করা। ২০৩০ সালের মধ্যে জাতীয়ভাবে ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে। দেশব্যাপী প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গার লেনদেন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, পুনঃচক্রায়ন ও পুনঃউৎপাদন শিল্পকে টেকসই রূপ দেওয়া এবং সবুজ ও নীল ঋণপত্রের মাধ্যমে বেসরকারি মূলধনকে পূর্ণাঙ্গভাবে কাজে লাগানোই হবে এই ধাপের মূল উদ্দেশ্য।
অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন সরকারি গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক অধ্যাপক এ কে এনামুল হক।
তিনি বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বড় ধরণের সরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি ও কর্মসংস্থান তৈরি করা হবে । সরকারি বিনিয়োগগুলোকে আরও দক্ষ ও সুশৃঙ্খল করাই হবে প্রথম বছরের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য । এছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাধারণ মানুষের জন্য পারিবারিক কার্ডের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে সহায়তা পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, দেশের উন্নয়নকে কেবল রাজধানী ঢাকা কেন্দ্রিক না রেখে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার বা বিকেন্দ্রীকরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দক্ষিণ অঞ্চলের মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে বিশেষ বিনিয়োগ এবং পদ্মা সেতু ও বাঁধ প্রকল্পের সুবিধা কাজে লাগানো হবে। উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য বগুড়াকে একটি শিল্প কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলে আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষা করা হবে।
এনামুল হক বলেন, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি বা মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে । অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য চলমান প্রকল্পগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের তদারকি বাড়ানো হবে এবং বরাদ্দের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় করা হবে। এছাড়া ২০২৬-২৭ সাল নাগাদ অবকাঠামো উন্নয়নের কাজকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
টেকসই অর্থনীতি গড়তে পুরো কাঠামোকে তিনটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়েছে। বর্তমান অবস্থা কাটিয়ে অর্থনীতিকে পুনরায় সচল করা, সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগকে সমন্বিত করে মজবুত ভিত্তি তৈরি এবং অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদী উন্নতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এসব পরিকল্পনা মূলত একটি প্রাথমিক কাঠামো, যার ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প গ্রহণ করা হবে বলে উল্লেখ করেন বিআইডিএসের মহাপরিচালক।
পরিকল্পনায় আরো উল্লেখ করা হয়েছে, সরকার দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে দেশের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের ধারায় নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত ধাপে ধাপে দেশের নামমাত্র মোট দেশজ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।
প্রস্তাবনা অনুযায়ী, কৌশল বাস্তবায়িত হলে আগামী বছরগুলোতে দেশের অর্থনীতি দ্রুত সম্প্রসারিত হবে এবং ২০৩৪-৩৫ সময়কালে তা এক ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। অর্থনীতির এ কাঠামোতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, ব্লু ইকোনমি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এতে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিকল্পনায় প্রায় এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মেধাভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে পাঁচ লাখ মানুষকে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের লক্ষ্যও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সামাজিক খাতে প্রায় চার কোটি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সরকারি ব্যয় ধীরে ধীরে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
জিইডির ভাষ্যমতে, প্রণয়ণ কৌশলের মাধ্যমে অর্থনীতিকে একটি উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারায় নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে শিল্প, কৃষি ও সেবা—এই তিনটি প্রধান খাতের অবদান বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হওয়ার পর্যায়ে বেসরকারি বিনিয়োগ হবে প্রধান চালিকাশক্তি। একই সঙ্গে বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ মোট দেশজ উৎপাদনের ২ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। শিল্প খাত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে শক্তিশালী অবদান রাখবে। পাশাপাশি উৎপাদনশীলতার উন্নতি, মানবসম্পদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শ্রমের গুণগত মানোন্নয়ন প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা পালন করবে।
অন্যদিকে, সরকার নতুন অর্থনৈতিক কৌশলের আওতায় রাজস্ব আদায়ে উচ্চাভিলাষী হলেও বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছরগুলোতে মোট দেশজ উৎপাদনের তুলনায় রাজস্ব আয় ৩ শতাংশ বৃদ্ধি করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত তথ্য বিশ্লেষণে দেখানো হয়েছে, সরকারের সংস্কার কার্যক্রম সফল হলে রাজস্ব আহরণ ধারাবাহিকভাবে বাড়তে পারে।
পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, অনুন্নয়ন ব্যয় মোট দেশজ উৎপাদনের তুলনায় মোটামুটি স্থিতিশীল রাখা হবে। একই সময়ে উন্নয়ন ব্যয় মোট দেশজ উৎপাদনের ৪ দশমিক ১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে সর্বাত্মক সংস্কারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রকল্প নির্বাচন, ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং তদারকি ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ব্যয়ের অংশ ধীরে ধীরে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের মতে, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এই দুই খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।
অন্যদিকে প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় বাংলাদেশের জনসংখ্যা এবং অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। দেশে একদিকে যেমন জনসংখ্যা বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে, অন্যদিকে তেমনি দ্রুত বাড়ছে প্রবীণদের সংখ্যা। সেই সঙ্গে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগাতে না পারায় বিশাল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে দেশ।
সম্প্রতি এক তথ্যের বরাতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২২ সালে ৬০ বছরের বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৫৪ লাখ, যা ২০৫০ সাল নাগাদ ৪ কোটিতে উন্নীত হবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের জনসংখ্যার ৬ শতাংশেরই বয়স ৬৫ বছরের বেশি। এটি দ্রুত ৭ শতাংশের সেই সীমা স্পর্শ করছে, যার মাধ্যমে একটি সমাজকে ‘বার্ধক্যগ্রস্ত সমাজ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এতে আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হওয়ার আগেই বাংলাদেশ বার্ধক্যজনিত ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। অর্থনৈতিক নিষ্ক্রিয়তার কারণে দেশে অনুপার্জিত শ্রম আয়ের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
তথ্যে দেখা যায়, ২০১৬ সালে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর অনুপার্জিত আয়ের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৪১১ বিলিয়ন টাকা, যা ২০২২ সালে ৪২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩ হাজার ৪২১ বিলিয়ন টাকায় দাঁড়িয়েছে। মূলত ২০ থেকে ৪৯ বছর বয়সী ক্রমবর্ধমান কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে শ্রমবাজারে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে না পারার কারণেই এই বিশাল ব্যবধান তৈরি হয়েছে।
এমন সংকট উত্তরণে প্রস্তাবিত নীতিমালায় বলা হয়েছে, বেসরকারি বিনিয়োগ যদি মোট দেশজ উৎপাদনের ৩০ শতাংশে উন্নীত করা যায়, তবে কর্মসংস্থান ৯ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। বার্ষিক রপ্তানি আয় ১০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি করতে পারলে কর্মসংস্থানে ১৬ দশমকি ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি আসবে, যা সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলবে। সামাজিক খাতে সরকারি বরাদ্দ দ্বিগুণ করে মোট দেশজ উৎপাদনের ৬ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হলে শ্রম আয়ের ৬৪ দশমিক ৩ শতাংশ বাস্তবায়ন করা যাবে। এটি জনসাধারণের জীবনযাত্রার মানের ওপর সবচেয়ে ইতিবাচক ও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে।
