নয়াখবর
মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নদী-জল-প্রকৃতি রক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত রূপান্তরের দাবি পরিবেশ ও নদী বিশেষজ্ঞদের

অনলাইন ডেস্ক
সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নদী ও জলসম্পদ রক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত রূপান্তরের আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ ও নদী বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, নদী, পানি, বন ও জলজ প্রতিবেশ সুরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্ব নদী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জেল হোসেন মানিক মিয়া হলে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) ও রিভার বাংলার আয়োজনে এবং আরও ৩৫টি সংগঠনের সহযোগিতায় ‘নদী বাঁচাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নেন নুর আলম শেখ, আমীন আল রশীদ, ড. কাজল রশীদ শাহীন ও শেখ রোকন। স্বাগত বক্তব্য দেন মো. ইকবাল ফারুক, সভাপতিত্ব করেন ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ফয়সাল আহমেদ, সম্পাদক, রিভার বাংলা।

সাবেক চেয়ারম্যান, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন ও সদস্য, উপদেষ্টা মন্ডলি, ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, নদী আমাদের পাবলিক প্রপার্টি ও জাতীয় সম্পদ। নদীর প্রবাহ ও জলাধার রক্ষা ছাড়া মানুষ, জীববৈচিত্র্য ও সভ্যতা রক্ষা সম্ভব নয়। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে আমাদের উত্তরণ প্রয়োজন, তবে তা হতে হবে পরিকল্পিত ও ধাপে ধাপে। একই সঙ্গে নদী ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা, নদী দখলমুক্তকরণ এবং প্রবাহ পুনরুদ্ধারে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

গবেষণা প্রধান, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ ও সদস্য ধরা, মো. ইকবাল ফারুক বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নদীর স্বাস্থ্য, জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যসম্পদের ক্ষতি করছে। নদী রক্ষায় এখনই জীবাশ্ম জ্বালানির ফেজ-আউট পরিকল্পনা করে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের জায়গায় সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি স্থাপন করতে হবে।

পশুর রিভার ওয়াটারকিপার, নুর আলম শেখ বলেন, নদী, বন ও পানি রক্ষা করতে হলে আমাদের নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকেই যেতে হবে। জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে টেকসই ও ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিত করতে হবে, যাতে নদী ও জলজ প্রতিবেশের ওপর দূষণের চাপ কমে এবং মানুষের জীবন-জীবিকা সুরক্ষিত থাকে।

সাংবাদিক ও লেখক, আমীন আল রশীদ বলেন, জ্বালানি ব্যবস্থায় আমাদের বহুমুখী পরিকল্পনা প্রয়োজন হলেও নদী ও পরিবেশের ক্ষতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তাই নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে উন্নয়ন ও পরিবেশের সংঘাত কমিয়ে নদী ও প্রকৃতিকে সুরক্ষিত রাখতে হবে।

সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক, ড. কাজল রশীদ শাহীন বলেন, নদী বাঁচাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির কোনো বিকল্প নেই। রাষ্ট্রকে শুধু ঘোষণা নয়, নদী ও প্রকৃতি রক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির টেকসই বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নদীর প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধকে শিক্ষা ও সংস্কৃতির মাধ্যমে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

নদী গবেষক ও মহাসচিব, বিভারাইন পিপল, শেখ রোকন বলেন, নদী ও পরিবেশ রক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর এখনই করতে হবে। ‘আরেকটু পরে’ বা ‘ধীরে ধীরে’ করার সুযোগ নেই। নদীকে বাঁচাতে হলে ক্ষতিকর জ্বালানি ও অপ্রয়োজনীয় মেগা প্রকল্পের পরিবর্তে টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে যেতে হবে।”

আলোচনায় নদী ও জলজ প্রতিবেশের ওপর জীবাশ্ম জ্বালানির প্রভাব, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি এবং নদী ও পানি সম্পদ সুরক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তা ও সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।

এ যৌথ আয়োজনের ৩৭টি সদস্য সংস্থা হল – ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ (WKB), সেন্টার ফর অ্যাটমোসফেরিক পলিউশন স্টাডিজ (CAPS), ইয়ুথ অ্যাকশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (YASD), আপস ইয়ুথ অর্গানাইজেশন, ব্রাইটার্স, ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (YEDO), ওএবি ফাউন্ডেশন, রিভার বাংলা ,বেঙ্গল পিস ফাউন্ডেশন, তরঙ্গ ফাউন্ডেশন, ক্লাইমেট ফ্রন্টিয়ার(CF), ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (DRDF), বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশন (BKF), রিভারাইন পিপল, এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভস (ERDA), সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন, সচেতন নাগরিক সমাজ সংগঠন, কোস্ট ফাউন্ডেশন, সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (CPRD), সেন্টার ফর রিনিউএবল এনার্জি সার্ভিসেস লিমিটেড (CRESL), আর্থস অ্যান্টস, কাসমাস অর্গানাইজেশন, বারসিক (BARCIK), হাওর অঞ্চলবাসী, স্বপ্নের সিঁড়ি সমাজকল্যাণ সংস্থা, মিশন গ্রিন বাংলাদেশ (MGB), ইকুইটি বিডি (EquityBD), সচেতন ফাউন্ডেশন, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য, গর্জন সমাজ কল্যাণ সংস্থা, বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (BSREA), রিভার সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট বাংলাদেশ, গ্রিনওয়ে রিনিউএবল এনার্জি ইমপ্লিমেন্টেশন অর্গানাইজেশন, ইউনিভো (UNIVO), ইউক্যান (YouCan), গ্রিনপিস ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি।