গতকাল মিরপুর-১০ এর উচ্ছেদ অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য প্রশাসকের নিকট অনুরোধ করেছেন স্থানীয় জনগণ |
রাজধানীর মিরপুর-১০ এর গতকালের উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে সংঘর্ষে আহত সাংবাদিক সিফাতের বাসায় সাক্ষাৎ শেষে মিরপুর-১০ এর উচ্ছেদ এলাকা পরিদর্শন করতে এলে স্থানীয় জনতা রাস্তা নেমে এসে প্রশাসকের সাহসী পদক্ষেপে প্রশংসা করেন এবং প্রশাসকের নিকট তারা এই অভিযান স্থায়ী ও আরো উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার অনুরোধ জানান |
এর আগে প্রশাসক গতকালের ঘটনায় আহত সিফাতের পশ্চিম শেওড়াপাড়ার বাসায় যান |
এ সময় সিফাতের স্বাস্থ্যের খোঁজ খবর নেন এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ হতে সমবেদনা জানান |
সাক্ষাত শেষে প্রশাসক সাংবাদিকদের জানান,ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক পরিচালিত অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে সকল অভিযানে সকল প্রকার বাধা উপেক্ষা করে সত্য ও সঠিক সংবাদ সংগ্রহের জন্য সাংবাদিকরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছেন | এই হামলার ঘটনা খুবই দুঃখজনক এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন সব সময় সাংবাদিকদের সাথে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে |
প্রশাসক সাংবাদিকদের জানান, ফুটপাতে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে যে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছি তা চলমান থাকবে এবং এই অভিযান কখনো থামবে না | তবে, উচ্ছেদ অভিযান ও হকারদের বিষয়ে কারো সু-পরামর্শ থাকলে গ্রহণ করা হবে |
ফুটপাত পুনরায় দখলের বিষয়ে প্রশাসক জানান, জনগণের পথ চলাচলের ফুটপাত জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে এবং কেউ যদি আবার বসে তাহলে আরো দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে কঠোর অবস্থানে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করবে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন |এ বিষয়ে কোন ছাড় দেওয়া হবে না |
হকারদের পুনর্বাসন নিয়ে প্রশাসক জানান, আমরা তাদের সাথে বসে, তাদের সাথে আলোচনা করে ,তাদের সম্মতি নিয়েই তাদেরকে বিকল্প রাস্তায় আমরা ২০৪ টি রেজিস্ট্রেশন কার্ডের মাধ্যমে তাদের আয়ের উপার্জনের ব্যবস্থা করেছিলাম | কিন্তু তারা তাদের কথা রাখেনি | তারা আবার একই জায়গায় অবৈধ উপায় দোকান চালাতে চায় | কিন্তু জনগণের পথ চলাচলের রাস্তা আর কারো হাতে ছেড়ে দেওয়া হবে না | হকাররা ব্যবসা অবশ্যই করবে কিন্তু ফুটপাত দখল করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে নয়, তাদের জন্য যে নির্দিষ্ট জায়গা দেওয়া হয়েছে সেখানেই তাদের ব্যবসা করতে হবে |
সাংবাদিকদের এক প্রশ্ন জবাবে প্রশাসক জানান, সিটি কর্পোরেশনের নিয়ম ও আইন অনুযায়ী নাগরিকদের সেবা ও জনদুর্ভোগ লাঘবে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন আওতাধীন যেকোনো এলাকায় যে কোন পদক্ষেপ নিতে পারে এবং নাগরিকদের নির্বিঘ্নে পথ চলাচলের জন্য যেকোনো সময়ের অভিযান করতে পারে | তবে এক্ষেত্রে যদি কারো কোন পরামর্শ থাকে ,সঠিক পরামর্শ দিলে তা গ্রহণ করা হবে |
সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রশাসক জানান, আমরা দলের নেতাকর্মীরা যদি ফুটপাত থেকে চাঁদাবাজি করে থাকে তাহলে আমরা কেন উচ্ছেদ অভিযান করব ? আমরা এখানে কোন চাঁদাবাজি করি না | আমার নেতা কর্মী এর সাথে জড়িত না | যারা দখলদারদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে কথা বলছে বরঞ্চ তারাই এই কাজ করতে পারে |
প্রশাসক সাংবাদিক ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের জানান, জনগণের স্বার্থে এবং নৈতিকতার দিক দিয়ে বিবেচনা করে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সেখানে গাছ লাগানোর মাধ্যমে ঢাকাকে সবুজায়ন ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে গড়ে তোলা হবে |
প্রশাসক ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উচ্ছেদ অভিযান টিমকে সহযোগিতা করার জন্য স্থানীয় জনগণকে আহ্বান জানান
