ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শিশু শিক্ষার্থ নিশাত হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিলে দেরি করার পিছনে কোনো অদৃশ্য শক্তির প্রভাব কিংবা ষড়যন্ত্র রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
৯ জুলাই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের স্বপ্নতরী কনভেনশন হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মামলার আইনগত বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি এ দাবি উত্থাপন করেন। নিশাত জাহান হত্যা মামলার আসামি ইশার দ্রুত বিচার, চার্জশিট দাখিল এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হিসেবে প্রকাশ্যে ফাঁসির দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা। সংবাদ সম্মেলনে হত্যার শিকার নিশাত জাহানের পরিবারের পক্ষে বক্তব্য দেন তার মা আকলিমা আক্তার ও বাসির।
এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলের নেতারাও নারী ও শিশু হত্যার দ্রুত বিচারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। কিন্তু নিশাত হত্যা মামলার তদন্তে দীর্ঘসূত্রিতা উদ্বেগজনক।
তিনি বলেন, যেখানে আসামির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থাকার পরও চার্জশিট দাখিলে কেন এত দেরি হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা দরকার। কোনো অদৃশ্য প্রভাব বা ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত হওয়া উচিত। প্রতি দ্রুত চার্জশিট দাখিল করে বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে আইন প্রয়োগকারী ও তদন্ত সংস্থার প্রতি আহ্বান জানান এডভোকেট জুবায়ের।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, থানার পুলিশ তদন্ত করে চার্জশিট দাখিল করতে সক্ষম হওয়ার পরও মামলাটি দীর্ঘ সময় ধরে অন্য সংস্থার তদন্তে থাকায় বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে। তারা প্রশ্ন তোলেন, আসামির স্বীকারোক্তির পরও তদন্ত শেষ না হওয়ার পেছনে কোনো প্রভাবশালী মহলের হাত রয়েছে কিনা?
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আমীর মাওলানা মোবারক হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট মফিজুর রহমান বাবুল, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জুনায়েদ হাসান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাহারুল ইসলাম মোল্লা, জেলা জামায়াতের অফিস সম্পাদক এডভোকেট মনিরুজ্জামান, কাজী সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।
