নয়াখবর
মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দুর্বলতায় গুরুত্বপূর্ণ ৮ খাতে পিছিয়ে বাংলাদেশ

online
জুন ২৯, ২০২৬ ৩:৪৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : বিশ্বব্যাংকের ২০২৩ সালের মূল্যায়ন অনুযায়ী, উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ মোট তেরোটি প্রাতিষ্ঠানিক খাতের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর দুর্বলতার কারণে রাজনৈতিক, সামাজিক, সততা, বিচার বিভাগ, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, সরকারি অর্থায়ন, শ্রম ও সামাজিক সুরক্ষা এবং সেবা প্রদানের মতো আটটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে অনেক পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে গত তিন বছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমেছে, রাজস্ব আহরণে চাপ বেড়েছে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিও স্থবির হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

গতকাল রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে সিটা প্রকল্প উদ্বোধনে এসব কথা বলেন বক্তারা। পরিকল্পনা বিভাগ, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) অধীন বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ), বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় (ওসিএজি) সিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ২০২৫ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের লক্ষ্য হলো নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যানের সহজলভ্যতা বৃদ্ধি, কর পরিপালন জোরদার এবং সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি করা। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ৩ হাজার ২৮৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) দেবে ৩ হাজার ৪৩ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ সরকার দেবে ২৪৪ কোটি টাকা।

পরিকল্পনা কমিশনের সচিব এস এম শাকিল আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। এসময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, বাংলাদেশ পাবলিক প্রসিকিউরমেন্ট অথরিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) এস. এম. মঈন উদ্দীন আহম্মেদ, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকার, আইএমইডি সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরী, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মো. নুরুল ইসলাম, বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যাঁ পেসমে এবং বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তা সেবাস্টিয়ান একার্ডট, পরিকল্পনা বিভাগের যুগ্মসচিব ও প্রকল্প পরিচালক নাছিমুর রহমান শরীফ। এসময় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিকল্পনা কমিশনের উপসচিব নাজমুল আলম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জোনায়েদ সাকি বলেন, অতীতে সরকারি অর্থ ব্যয়ে যে লাগামহীন লুটপাট ও অর্থপাচার হয়েছে, তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েই বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে কাজ করছে। এ লক্ষ্যেই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকারি পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে অটোমেশন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ‘স্ট্রেনদেনিং ইনস্টিটিউশনস ফর ট্রান্সপারেন্সি অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি (সিটা)’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

কোনো তথ্য যেনো ম্যানিপুলেটেড না হয় এ গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্যের কোনো বিকল্প নেই। তাই তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক জরিপসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সব পরিসংখ্যানকে আরও নির্ভুল ও সময়োপযোগী করতে বিবিএসকে প্রযুক্তিগতভাবে আরও শক্তিশালী করা হবে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি দারিদ্র্য বিমোচনের গতিও কমে এসেছে বলে উল্লেখ করেন জ্যাঁ পেসমে। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের একটি উল্লেখযোগ্য জনগোষ্ঠী আন্তর্জাতিক দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থান করার আশঙ্কা রয়েছে। বাহ্যিক বিভিন্ন অর্থনৈতিক ধাক্কা দেশের কাঠামোগত দুর্বলতাগুলোকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
সরকারি বিনিয়োগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও নানা সীমাবদ্ধতার কথা তুলে জ্যাঁ পেসমে বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে গড়ে ব্যয় প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পায় এবং কাজ শেষ হতে প্রায় তিন বছর পর্যন্ত বিলম্ব হয়। এর প্রভাব অবকাঠামোর গুণগত মানের পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা খাতেও পড়ছে। একইসঙ্গে ব্যাংকিং খাতে সুশাসনের ঘাটতির কারণে জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনাও উদ্বেগের কারণ রয়েছে।
বর্তমান ৭ শতাংশের কম কর-জিডিপি অনুপাত বাড়িয়ে প্রায় ১৫ শতাংশে উন্নীত করার আহবান জানান এনবিআরের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান। এ সময় তিনি রাজস্ব ফাঁকি রোধ এবং সরকারি সব স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মধ্যে অধিকতর সমন্বয় প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।