সংসদ অধিবেশন………
বিগত ২০২৪ ও ২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের আওতাভুক্ত ১৮৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি ৷
রোববার(১৪ জন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মোঃ আবুল কালামের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা জানান। এ সময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন: বিগত ২০২৪ ও ২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাভুক্ত সর্বমোট ১৮৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
সরকার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। শতভাগ অকৃতকার্য ফলাফলপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। পদক্ষেপ গুলো হলো, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানসমূহকে বিশেষ পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে: প্রতিষ্ঠান প্রধান ও বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ ও একাডেমিক সহায়তা কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে; দুর্বল ফলাফলের কারণ চিহ্নিত করতে নিয়মিত পরিদর্শন ও মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে; শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি নিরূপণ ও রেমিডিয়াল/ক্যাচ-আপ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে;শিক্ষা বোর্ড, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ফলাফলের ধারাবাহিক মূল্যায়ন ও তদারকি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সরকারের লক্ষ্য হলো কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেন ধারাবাহিকভাবে শূন্য পাসের অবস্থায় না থাকে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা।
পৃথক পাবলিক পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে
পাবলিক পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পৃথক বা স্থায়ী পাবলিক পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রস্তাব অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
রোববার(১৪ জন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য ইকরামুল বারঅ টিপুর এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা জানান। এ সময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। রোববারের প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয় ৷
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, বর্তমানে দেশের প্রচলিত পরীক্ষা ব্যবস্থাপনাকে অধিকতর সুশৃঙ্খল, নিরপেক্ষ ও মানসম্মত করা এবং পাবলিক পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিষয়টি সরকার অত্যন্ত পুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে সারাদেশে পৃথক বা স্থায়ী পাবলিক পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (Feasibility Study) প্রস্তাব অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হলে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা, ভৌগোলিক অবস্থান, বিদ্যমান অবকাঠামোর প্রাপ্যতা, জমির প্রাপ্যতা এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় উপজেলা, জেলা অথবা আঞ্চলিক পর্যায়ে স্বতন্ত্র পাবলিক পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
সমীক্ষার সুপারিশ এবং পরবর্তী উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। তবে সমীক্ষা সম্পন্ন এবং প্রকল্প অনুমোদনের পূর্বে বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা সম্ভব নয়।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো একটি আধুনিক, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও কার্যকর পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা, যাতে পরীক্ষার সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত না হয় এবং পরীক্ষার্থীরা আরও উন্নত পরিবেশে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে।
শিক্ষকদের কল্যাণ সুবিধায় বার্ষিক ঘাটতি ১৫৬ কোটি, ঝুলে আছে ৪৪ হাজার আবেদন
বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ সুবিধা প্রদানে বড় ধরনের আর্থিক সংকটের চিত্র উঠে এসেছে জাতীয় সংসদে। বর্তমানে এই খাতে প্রতিবছর প্রায় ১৫৬ কোটি টাকার ঘাটতি হচ্ছে। এর ফলে ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রায় ৪৪ হাজার আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ঝুলে আছে।
রোববার (১৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় এবং প্রথম বাজেট অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে লিখিত প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ তথ্য জানান। বিকেল ৩টায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়।
যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. গোলাম রছুলের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের বার্ষিক মোট আয় প্রায় ৬৮৪ কোটি টাকা। বিপরীতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সুবিধা প্রদানে বার্ষিক প্রয়োজন প্রায় ৮৪০ কোটি টাকা। ফলে প্রতিবছর ১৫৬ কোটি টাকার বিশাল ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।
সুবিধা পেতে বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মাসিক বেতনের ৪ শতাংশ চাঁদা এবং এর বিনিয়োগজনিত মুনাফা থেকেই এই ট্রাস্ট পরিচালিত হয়। কিন্তু মূল বেতনের বার্ষিক প্রবৃদ্ধির কারণে দায়ের পরিমাণ ক্রমাগত বাড়ছে। এই আর্থিক সংকটের কারণেই সুবিধা প্রদানে সময় লাগছে।”
মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে ৪৪ হাজার আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এই বিশাল সংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তির জন্য এককালীন প্রায় ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকার অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন।
আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তিতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ৯ হাজার ২৮৪ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে ৫৫৩ কোটি ৬৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকার বেশি সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। ২০২৩ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত জমাকৃত সব আবেদন নিষ্পত্তি করে ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ (iBAS++) পদ্ধতিতে সরাসরি ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানো হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, ২০২৩ সালের জুন ও জুলাই মাসের আবেদনগুলো পরিশোধের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। অনিষ্পন্ন ৪৪ হাজার আবেদন দ্রুত শেষ করতে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থানের বিষয়টি সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে।
শিবির নেতাকে নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে উত্তপ্ত সংসদ, বিরোধী দলের হট্টগোল ও প্রতিবাদ
ছাত্রশিবিরের এক কেন্দ্রীয় নেতাকে নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের দেওয়া বিবৃতিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জাতীয় সংসদ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও রাজনৈতিক’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান বিরোধী দলীয় উপনেতা। এ সময় সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক হট্টগোল ও বাগবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়।
রোববার (১৪ জুন) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় এবং প্রথম বাজেট অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে এ ঘটনা ঘটে। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি ও ‘নিখোঁজ’ রহস্য
সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, গত ১১ জুন কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়া বাংলাদেশ ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ জিশান মিয়া প্রধানের ‘নিখোঁজ’ হওয়ার বিষয়টি আসলে একটি সাজানো নাটক।
মন্ত্রী পুলিশের বরাত দিয়ে দাবি করেন, “জিশান মিয়ার সঙ্গে এক নারীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পরে জিশান তাকে ভ্রূণ নষ্ট করার ওষুধ খাওয়ান। বিয়ে করার কথা থাকলেও গত ১১ জুন তিনি বিয়ে না করে আত্মগোপনে চলে যান এবং তার স্বজনদের মাধ্যমে থানায় জিডি করান। পরবর্তীতে পুলিশ অনুসন্ধানে জানতে পারে তিনি লাকসাম এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। পরে ওই নারীসহ জিশান থানায় হাজির হন।”
বিরোধী দলের ক্ষোভ ও হট্টগোল
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরপরই ফ্লোর নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান বিরোধী দলীয় উপনেতা ড. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, “সাবেক আইজিপিকে গ্রেফতারের সাফল্যে আমরা সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছি। কিন্তু একজন ছাত্রনেতাকে কেন্দ্র করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এটি একটি দলের চরিত্র হননের জন্য পরিকল্পিত প্লট। সংসদের ইতিহাসে একটি নির্দিষ্ট দলকে টার্গেট করে এভাবে বক্তব্য দেওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন।”
ড. তাহের প্রশ্ন তোলেন, “জিশান এখন কোথায়? কেন সাংবাদিকদের বা তার পরিবারকে ওই নারীর সাথে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না? আমরা এই বক্তব্য রেকর্ড থেকে এক্সপাঞ্জ (প্রত্যাহার) করার দাবি জানাচ্ছি।”
এ সময় বিরোধী দলীয় সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তার বক্তব্যকে সমর্থন জানান এবং সরকারি দলের সদস্যরা পাল্টা চিৎকার শুরু করলে সংসদ কক্ষে চরম হট্টগোল সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ডেপুটি স্পিকার সদস্যদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
স্পিকারের রুলিং
পরিস্থিতি সামাল দিতে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, “৩০০ বিধিতে বক্তব্যের ওপর কোনো প্রশ্ন করার সুযোগ নেই। তবে বিরোধী দলীয় উপনেতা যে পয়েন্ট তুলেছেন, সেটি আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখব। যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে কোনো অসংসদীয় বা নীতি-বহির্ভূত শব্দ থাকে, তবে তা কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করা হবে।”
এরপরও বেশ কিছুক্ষণ হট্টগোল চলতে থাকে। পরে স্পিকারের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলে সংসদের নিয়মিত কার্যসূচি অনুযায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনা শুরু হয়।
ভারত সীমান্তে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) কর্তৃক বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘পুশ ইন’ তৎপরতা নিয়ে জাতীয় সংসদে নির্ধারিত বিশেষ আলোচনা স্থগিত করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (ঢাকা-১৪) মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান।
রোববার (১৪ জুন) বিকেলে সংসদের অধিবেশন শুরু হলে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এই সমালোচনা করেন। বাজেট অধিবেশনের ব্যস্ততা ও সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে বিষয়টি সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে জানিয়ে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, দ্রুতই এই বিষয়ে আলোচনার ব্যবস্থা করা হবে।
পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান বলেন, “দেশের সার্বভৌমত্ব, নাগরিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার রক্ষার স্বার্থে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অবৈধ পুশ ইন ও সীমান্ত হত্যা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে আমি কার্যপ্রণালী-বিধির ১৪৭ ধারা অনুযায়ী একটি সাধারণ প্রস্তাবের নোটিশ দিয়েছিলাম। সংসদ সচিবালয় থেকে জানানো হয়েছিল যে, আজ রোববার বিষয়টি আলোচনার জন্য গৃহীত হয়েছে। এমনকি গত বৃহস্পতিবারের অধিবেশন মূলতবি হওয়ার পর রবিবারের মূল কার্যসূচিতেও এটি অন্তর্ভুক্ত ছিল।”
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আজ সকালে দেওয়া নতুন কার্যসূচি থেকে রহস্যজনকভাবে বিষয়টি বাদ দিয়ে জানানো হয়েছে ‘অনিবার্য কারণবশত’ প্রস্তাবটি স্থগিত। জনগণের রক্তের চেয়ে আর কী গুরুত্ব থাকতে পারে যে এত বড় একটি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থগিত করতে হলো?” তিনি দ্রুত আলোচনার সুনির্দিষ্ট তারিখ দাবি করেন।
জবাবে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, “নোটিশটি বাতিল করা হয়নি, এটি আমার সামনেই আছে। বর্তমানে বাজেট অধিবেশন চলায় আমাদের সময়ের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সেই কারণেই এটি একটি সাময়িক পদক্ষেপ মাত্র।”
সীমান্ত হত্যা ও পুশ ইন ইস্যুটিকে ‘মৌলিক ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে স্বীকার করে ডেপুটি স্পিকার আশ্বাস দেন যে, খুব শিগগিরই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে এই নোটিশের ওপর সংসদে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হবে।
এর আগে বিকেল ৩টায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় এবং প্রথম বাজেট অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনের কার্যক্রম শুরু হয়।
সংসদে পোশাক নিয়ে মন্তব্যের কড়া সমালোচনা নাহিদ ইসলামের
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় এবং প্রথম বাজেট অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদে উত্তপ্ত ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিরোধী দলের নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক ও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কটাক্ষ করায় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
রোববার (১৪ জুন) বিকেলে সংসদ অধিবেশনে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ সংসদ সদস্য তার বক্তব্যে সংসদীয় রীতিনীতি এবং সাংবিধানিক অধিকারের সব সীমা অতিক্রম করেছেন। তিনি বিরোধীদলীয় উপনেতার স্ত্রীকে নিয়ে কটাক্ষ করেছেন, যা একটি অমার্জনীয় অপরাধ। এছাড়া তিনি বিরোধী দলের নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণ করে যে ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন, সেটিও অমার্জনীয় অপরাধ বলে আমরা মনে করি।’
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রত্যেকটি ব্যক্তির তার ধর্মীয় ও পোশাকের স্বাধীনতা রয়েছে। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে সেই স্বাধীনতাকে লঙ্ঘন করে তিনি যে হীন বক্তব্য দিয়েছেন, তা তার হীন মানসিকতার পরিচয় এবং এটি একটি বর্ণবাদী আচরণ। আমরা আশা করব ভবিষ্যতে এই মহান জাতীয় সংসদে কারও কাছ থেকে যেন এ ধরনের বক্তব্য আর উচ্চারিত না হয়।’
এ সময় বিতর্কিত বক্তব্যের অংশটি এক্সপাঞ্জ (কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া) করায় তিনি স্পিকারকে ধন্যবাদ জানান।
জবাবে অধিবেশনে সভাপতিত্ব করা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘মাননীয় সদস্য, আপনি সর্বশেষ যে কথাটি বলেছেন, আমিও সেটিই বলেছি। ওনার বক্তব্যের যে অংশটুকু সংসদীয় রীতিনীতির বাইরে গেছে, সেগুলো এক্সপাঞ্জ করার নির্দেশনা ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে।’
এ সময় ডেপুটি স্পিকার সংসদে একটি রুলিং দিয়ে বলেন, ‘সংসদে বসে আমরা কারও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলব না। আমরা আমাদের মর্যাদা বা ডিগনিটি বজায় রাখব।’
পরে ৩০২ ধারায় পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলতে চাওয়া সদস্যদের উদ্দেশ্যে ডেপুটি স্পিকার বলেন, এর জন্য নোটিশ দিতে হবে। নোটিশ দিলে তা বিবেচনা করা হবে। এ সময় তিনি সরকারদলীয় সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে নিজ আসনে বসার অনুরোধ করেন এবং সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে দুই মিনিট বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেন।
নারী এমপিদের পোশাক নিয়ে মন্তব্য, সংসদে মনিরুল হকের বক্তব্য এক্সপাঞ্জ
জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় নারী সংসদ সদস্যদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পোশাক নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদ অধিবেশনে চরম হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পিকার তার বক্তব্যের বিতর্কিত অংশটুকু সংসদীয় কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) দেওয়ার ঘোষণা দেন।
রোববার (১৪ জুন) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় এবং প্রথম বাজেট অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে বাজেট আলোচনার সময় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে মনিরুল হক চৌধুরী রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর কঠোর সমালোচনা শুরু করেন। এক পর্যায়ে তিনি ২০০৪ সালের একটি পারিবারিক দাওয়াতের গল্প টেনে আনেন এবং উপস্থিত নারী সংসদ সদস্যদের ইঙ্গিত করে তাদের পোশাক ও পর্দা নিয়ে ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর মন্তব্য করেন।
তার এই মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গেই সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে চিৎকার ও প্রতিবাদ শুরু করলে পুরো অধিবেশন কক্ষজুড়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অত্যন্ত কঠোর ভাষায় মনিরুল হক চৌধুরীকে সতর্ক করেন। স্পিকার বলেন, “আমরা সবাই জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। আমরা যদি নিজেদের ডিসেন্সি (ভদ্রতা) এবং ডিগনিটি (মর্যাদা) ধরে রাখতে না পারি, তবে দেশের মানুষের কাছে আমাদের লজ্জিত হতে হবে। এই মহান সংসদ কারো ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলার চারণক্ষেত্র নয়।”
পরে স্পিকার মনিরুল হকের বক্তব্যের আপত্তিকর অংশটুকু এক্সপাঞ্জ করার নির্দেশ দেন। তীব্র সমালোচনার মুখে মনিরুল হক চৌধুরী সংসদে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং তার কোনো শব্দে কারো আত্মসম্মানে আঘাত লেগে থাকলে তা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান।
বিতর্কিত মন্তব্যের আগে মনিরুল হক চৌধুরী তার বক্তব্যে বিএনপি ও তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা সরকারের বিদায়ের পর দেশ পরিচালনায় তারেক রহমান অত্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় দিচ্ছেন।” এছাড়া কুমিল্লা-ঢাকা রেললাইন প্রকল্প এবং সিলেট ও নোয়াখালীর দূরত্ব কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ায় তিনি সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
তবে জামায়াত এবং নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে করা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের কারণে তার পুরো বক্তব্যই ম্লান হয়ে যায় এবং সংসদের ভেতরে-বাইরে তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন
