“স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আইনস্টাইন” নামে খ্যাত বিশ্ববরেণ্য প্রকৌশলী ফজলুর রহমান খান।
১৯২৯ সালের ৩ এপ্রিল মাদারিপুরের শিবচরে জন্ম নেওয়া এই মহান মানুষটি শুধু বাংলাদেশের গর্বই নন, আধুনিক বিশ্বের স্থাপত্য ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর চিন্তা, উদ্ভাবন এবং দূরদর্শিতা আজও বিশ্বজুড়ে গগনচুম্বী ভবনের নকশায় পথ দেখায়। মেঘের রাজ্যে বসবাস করার পথ দেখানোর অগ্রদূত এফ রহমান খান।
বিশ্বের অন্যতম উচ্চ ভবন সিয়ার্স টাওয়ার (বর্তমানে উইলিস টাওয়ার)-এর নকশা প্রণয়নের মাধ্যমে তিনি বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর উদ্ভাবিত “টিউব ইন টিউব” পদ্ধতি গগনচুম্বী ভবন নির্মাণে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে দেয়, যার মাধ্যমে শততলা বা তারও বেশি উচ্চতার ভবন তুলনামূলক কম খরচে নির্মাণ সম্ভব হয়।
১৯৭২ সালে তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং নিউজ রেকর্ড-এর “ম্যান অব দ্য ইয়ার” নির্বাচিত হন। এছাড়াও ১৯৬৫, ১৯৬৮, ১৯৭০, ১৯৭১ ও ১৯৭৯ সালে স্থাপত্যশিল্পে অসামান্য অবদানের জন্য বিশেষ স্বীকৃতি লাভ করেন।
তাঁর সম্মানে শিকাগো শহরে সিয়ার্স টাওয়ারের পাশের একটি সড়কের নামকরণ করা হয় “ফজলুর আর. খান ওয়ে”—যা তাঁর অবদানের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির একটি উজ্জ্বল নিদর্শন।
শুধু স্থাপত্য নয়, মুসলিম স্থাপত্য নিয়েও তিনি গবেষণা করেছেন এবং গগনচুম্বী ভবন নিয়ে সাত খণ্ডের একটি গ্রন্থ সম্পাদনা করেছেন।
১৯৮২ সালের ২৬ মার্চ জেদ্দায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে তাঁকে শিকাগোতে সমাহিত করা হয়।
তিনি নেই, কিন্তু তাঁর সৃষ্টি আজও আকাশ ছুঁয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
এই মহান প্রকৌশলীর প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা
