১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ আগারগাঁওস্থ বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে যান এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৩২টি আসনের ফলাফল বিষয়ে নির্দিষ্ট অভিযোগ উত্থাপন করেন।
বৈঠক শেষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ এক সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে বলেন,
“নির্বাচনে বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ আমরা কমিশনের কাছে তুলে ধরেছি। এর মধ্যে রয়েছে ভোট কারচুপি, নির্বাচনী এজেন্টদের কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা ও কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া, জাল ভোট প্রদান, কালো টাকার ব্যবহার এবং কোথাও কোথাও হুমকি-ধমকি ও সহিংসতার ঘটনা। ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া আংশিকভাবে সুষ্ঠু হলেও সামগ্রিকভাবে এর সমাপ্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মাঠপর্যায়ে দায়ের করা একাধিক অভিযোগের কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি—এ বিষয়টি কমিশনও স্বীকার করেছে। চার শতাধিক হারানো পিস্তল এখনো উদ্ধার হয়নি। এসব বিষয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে বলে আমাদের ধারণা।
কিছু কেন্দ্রে কর্তব্যরত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যালটে সিল মারার অভিযোগ রয়েছে। দলীয় কর্মীদের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ এসেছে। ভোটগ্রহণকালে ভয়ভীতি প্রদর্শনের কারণে ভোটার উপস্থিতি কম ছিল বলে আমরা মনে করি।
তিনি বলেন, ভোট গণনার সময় কোথাও কোথাও এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে এবং যারা ছিলেন, তাদের নিষ্ক্রিয় রাখা হয়েছে। রেজাল্ট শিটে কাটা-ছেড়া, ওভাররাইটিং এবং এজেন্টদের স্বাক্ষর না নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ঢাকা-৬ আসনের একটি রেজাল্ট শিট পেন্সিলে লেখা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়মের কারণে ফলাফলের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বিশেষত ৩২টি আসনে স্বল্প ভোটের ব্যবধানে আমাদের প্রার্থীদের পরাজিত দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে আল্লামা মামুনুল হক, মিয়া গোলাম পরওয়ার ও ঢাকা-৮ আসনে নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারীর নাম রয়েছে। আমরা এসব আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছি এবং প্রমাণসহ অভিযোগের তালিকা কমিশনে জমা দিয়েছি।
তিনি বলেন, প্রার্থিতা যাচাই-বাছাইয়ে ঋণখেলাপী ও দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদের বৈধতা দেওয়ার বিষয়টিও আমরা গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করেছি।
তিনি বলেন, নির্বাচন শেষে দ্রুত গেজেট প্রকাশের কারণে দূরবর্তী এলাকা থেকে প্রার্থীদের অভিযোগ দায়েরের সুযোগ সীমিত হয়েছে- এ বিষয়েও আমরা আপত্তি জানিয়েছি। কমিশন জানিয়েছে, আইনের দরজা সবার জন্য খোলা রয়েছে। তাই আমরাও আইনি প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হব।
তিনি বলেন, জুলাই সনদ বহু ত্যাগ ও আত্মদানের বিনিময়ে প্রণীত হয়েছে। জনগণের ম্যান্ডেটকে সম্মান জানিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। নির্বাচন কমিশনের প্রতি অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্তের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই রাজনৈতিক সমাধান হওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে ও পরে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যা উদ্বেগজনক। ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ৫৪টি জেলার সহিংসতার তথ্য সংকলন করে গণমাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে।
সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা সংসদে গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে চাই। তবে সহিংসতা অব্যাহত থাকলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালনে বাধ্য হব।
এ লক্ষ্যে ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকাল সাড়ে ৪টায় ঢাকার বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
