অবিলম্বে ভারত সরকার কর্তৃক বাংলাদেশে পুশ-ইন ও সীমান্ত হত্যা বন্ধের দাবিতে ১০ জুন দুপুর ১২টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “রাজনৈতিক সংকট, সীমান্ত হত্যা ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবন বিপর্যস্ত। আমরা এহেন পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদী শাসন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতা এবং সংস্কার কার্যক্রমে সরকারের অনীহার কারণে দেশের রাজনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও কার্যকর সাংবিধানিক সংস্কারের উদ্যোগ না নেওয়ায় জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। এ দাবিতে জোটের আন্দোলন চলমান রয়েছে এবং বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশের মাধ্যমে তা আরও জোরদার করা হবে।”
তিনি সীমান্ত হত্যা ও অনুপ্রবেশের ঘটনাকে জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, গত ১০০ দিনে বিএসএফের গুলিতে ১৯ বাংলাদেশি নিহত ও ২৪ জন আহত হয়েছেন। সম্প্রতি ভারত সরকার তাদের নাগরিকদের সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা ভারত সরকারের এই ভূমিকার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগ করে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হত্যা, সহিংসতা, চাঁদাবাজি, নারী নির্যাতন ও অন্যান্য অপরাধের ঘটনা বেড়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে।
১১-দলীয় জোট আগামী ১২ জুন সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে প্রতিবাদ সমাবেশ এবং ১৫ জুন ঢাকায় প্রতিবাদ সভা ও মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
এছাড়া বিভিন্ন জেলায় সেমিনার ও রাজধানীতে গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক জনাব নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমীর আবদুল মাজেদ আতহারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজি, জাগপার মহাসচিব অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন রানা, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি জনাব নিজামুল হক নাঈম প্রমুখ।
