নয়াখবর
মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চলতি বাজেটে ভ্যাট, শুল্ক, এবং আয়কর বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার এসোসিয়েশন।

অনলাইন ডেস্ক
জুন ১৭, ২০২৬ ২:২২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

চলতি বাজেটে ভ্যাট, শুল্ক, এবং আয়কর বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার এসোসিয়েশন। বুধবার দুপুরের জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রতিবাদ জানায়। সংবাদ সম্মেলনটি হুবহু তোরে ধরা হলো :-

আমরা জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ এ স্টিল শিল্পের উপর প্রস্তাবিত অতিরিক্ত ভ্যাট, শুল্ক ও করের প্রভাব সম্পর্কে আমাদের উদ্বেগ তুলে ধরতে উপস্থিত হয়েছি।

প্রথমেই আমরা বলতে চাই, এবারের বাজেটে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ রয়েছে, যা আমরা স্বাগত জানাই। ন্যূনতম কর সংক্রান্ত ধারা ১৬৩-এর অধিকাংশ বিধান বিলুপ্ত করা, ধারা ২৯১ ও ২৯৩ অনুযায়ী আপিল ও হাইকোর্ট রেফারেন্সের ক্ষেত্রে অগ্রিম কর জমার হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা, বিদেশি ঋণের সুদের উপর উৎসে কর ২০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা, বিদ্যুৎ বিক্রয়ের বিলের উপর উৎসে কর ৪ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশ নির্ধারণসহ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত ব্যবসা সহজীকরণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আমরা মনে করি। এ জন্য আমরা সরকার ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে ধন্যবাদ জানাই।

তবে একইসঙ্গে আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, এমন সময়ে শিল্পটির উপর নতুন করে ভ্যাট, শুল্ক ও করের অতিরিক্ত বোঝা আরোপ করা হয়েছে যখন দেশের স্টিল শিল্প বর্তমানে অত্যন্ত কঠিন ব্যবসায়িক বাস্তবতার মধু দিয়ে অতিক্রম করছে।

বর্তমানে দেশে স্টিলের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৫০ লক্ষ মেট্রিক টন, অথচ শিল্পটির স্থাপিত উৎপাদন সক্ষমতা ১ কোটি মেট্রিক টনেরও বেশি। ফলে অধিকাংশ কারখানা বর্তমানে ৫০ শতাংশেরও কম সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে উৎপাদন কয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো তীব্র আর্থিক চাপে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

ইতোমধ্যে সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রতি মেট্রিক টন স্টিল উৎপাদনে আনুমানিক ১,৮০০ থেকে ২,০০০ টাকা অতিরিক্ত বয় যুক্ত হয়েছে। এর পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (Chattogram Port Authority CPA) সংশ্লিষ্ট চার্জ, রিভার ডিউজ, ল্যান্ডিং চার্জ, পরিবহন রায় এবং অন্যান্য অপারেশনাল রায় বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন রায় আরও বেড়েছে। সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক সমযে প্রতি মেট্রিক টনে প্রায় ৩,০০০ থেকে ৩,৫০০ টাকা অতিরিক্ত রায় যুক্ত হয়েছে।

এই অবস্থার মধেই প্রস্তাবিত বাজেটে বিক্রয় পর্যায়ে ভ্যাট বৃদ্ধির ফলে প্রতি মেট্রিক টনে ৭০০ টাকা, স্থানীয় ক্র্যাপের উপর ভ্যাট বৃদ্ধির ফলে ৩০০ টাকা, ফেরো-অ্যালয়, রিফ্যাক্টরি সামগ্রী, স্পেয়ার পার্টসের উপর রেগুলেটরি ডিউটি (RD), খুচরা বিক্রয়ের উপর উৎসে কর (TDS) এবং অন্যান্য কর ও শুল্ক বৃদ্ধির কারণে আরও আনুমানিক ২,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকা অতিরিক্ত রায় বৃদ্ধি পাবে।
অর্থাৎ বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি এবং বাজেটে প্রস্তাবিত নতুন কর-শুল্ক কাঠামোর সম্মিলিত প্রভাবে প্রতি মেট্রিক টনে সরাসরি উৎপাদন বায় প্রায় ৫,০০০ থেকে ৬,০০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে বাজারে চাহিদা কম থাকায় এবং অধিকাংশ মিল ৫০ শতাংশেরও কম সক্ষমতায় পরিচালিত হওয়ায় ওভারহেড রায়, ঝ্যাংক সুদ কয় ও স্থায়ী ব্যয়ের চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে প্রতি মেট্রিক টনে অতিরিক্ত ৫,০০০ থেকে ৬,০০০ টাকা পরোক্ষ রায় সৃষ্টি হয়েছে।

ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কয় মিলিয়ে স্টিল শিল্পের উপর মোট অতিরিক্ত কর প্রতি মেট্রিক টনে আনুমানিক ১১,০০০ থেকে ১২,০০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

সম্মানিত সাংবাদিকবৃন্দ,

আমরা বিশ্বাস করি, রাজস্ব বৃদ্ধির সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো উৎপাদন বৃদ্ধি, শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি ত্বরান্বিত করা।

আমরা জাতীয় বাজেটে উন্নয়ন খাতে বরাদ্দকে স্বাগত জানাই। তবে এই বরাদ্দের প্রকৃত সুফল তখনই আসবে, যখন উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ দ্রুত বাস্তবায়িত হবে এবং মাঠপর্যায়ে কার্যকর নির্মাণ কাজ শুরু হবে।

সড়ক, সেতু, ফ্লাইওভার, রেলপব, স্থবির হয়ে থাকা পাতাল রেল ও মেট্রোরেল প্রকল্প, সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর, শিল্পাঞ্চল, অর্থনৈতিক অঞ্চল, আবাসন প্রকল্প, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং অন্যান্য অবকাঠামো ও মেগা প্রকল্পসমূহ দ্রুত বাস্তবায়িত হলে স্টিলের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এর পাশাপাশি সিরামিক শিল্প, কাচ শিল্প, সিমেন্ট শিল্প, রড-ট্রাকচারাল স্টিল শিল্প, প্রকৌশল ও নির্মাণসামগ্রী শিল্প, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম শিল্প, অ্যালুমিনিয়াম শিল্প, পেইন্ট শিশু, পরিবহন ও লজিস্টিকস খাতসহ নির্মাণ ও শিল্পায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অসংখ্য খাতেও নতুন গতি সঞ্চার হবে। ফলে বর্তমানে সক্ষমতার ৫০ শতাংশেরও কম উৎপাদনে পরিচালিত স্টিল মিলগুলো ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ সক্ষমতায় উৎপাদন পরিচালনা করতে পারবে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে, নতুন বিনিযোগ উৎসাহিত হবে এবং সরকার ভ্যাট, শুল্ক, আয়কর ও অন্যান্য কর বাবদ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অতিরিক্ত রাজস্ব অর্জন করবে এবং সামগ্রিক অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।

তাই আমরা সরকারের নিকট বিনীত কিন্তু জোরালোভাবে নিমোক্ত দাবিসমূহ বিবেচনার আহ্বান জানাচ্ছি-

। স্টিল শিল্পের উপর প্রস্তাবিত অতিরিক্ত ভ্যাট, শুল্ক ও কর পুনর্বিবেচনাপূর্বক প্রত্যাহার করতে হবে। ২। বিক্রয় পর্যায়ে নির্ধারিত মূসক (ভ্যাট) এবং স্থানীয় ক্র্যাপের উপর আরোপিত অতিরিক্ত ভ্যাট প্রত্যাহার করতে হবে।

৩। ফেরো-অ্যালয়, রিফ্যাক্টরি সামগ্রী, স্পেয়ার পার্টস এবং উৎপাদন সংশ্লিষ্ট কাঁচামালের উপর আরোপিত অতিরিক্ত কর ও শুল্ক

পুনর্বিবেচনা করতে হবে।

৪। টার্নওভার ট্যাক্স ১ শতাংশের পরিবর্তে পূর্বের ন্যায় ০.৬ শতাংশ নির্ধারণ করতে হবে।

৫। উন্নয়ন বাজেট দ্রুত বাস্তবায়নের মাধুমে শিল্পখাতে পক্ষের চাহিদা সৃষ্টি করতে হবে।

আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, দেশের শিল্পখাতকে শক্তিশালী করেই সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব। বাংলাদেশের স্টিল শিল্পকে টিকিয়ে রাখা মানে দেশের শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে শক্তিশালী করা